
এক কথায় উত্তর
বগুড়ায় নভেম্বর থেকে মার্চ, এই পাঁচ মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি মোট ৫০ মিলিমিটার, যেখানে সারা বছরের স্বাভাবিক বৃষ্টি ১,৭৪৮ মিলিমিটার। অর্থাৎ পাঁচ মাসে পড়ে বছরের ৩ শতাংশেরও কম। এর মধ্যে ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে তাপমাত্রাও নেমে যায় সেই মাত্রার নিচে যেখানে ঘাস কার্যত বাড়া বন্ধ করে দেয়। গরু কিন্তু ওই ১৫০ দিনও প্রতিদিন খায়। এই ফারাকটার নামই মৌসুমি খাদ্য সংকট, আর এটি প্রতি বছর একই সময়ে আসে।
১. ঘাস কেন নির্দিষ্ট কয়েকটা মাসে বাড়ে না
খামারি জানেন শীতে ঘাস কম, কিন্তু কারণটা সাধারণত "শীত পড়েছে" বলে ছেড়ে দেওয়া হয়। আসল কারণটা আরও নির্দিষ্ট, আর সেটা একটা সংখ্যা।
নেপিয়ার ঘাস নিয়ে ২০২৩ সালে Frontiers in Plant Science-এ প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা অনুযায়ী, নেপিয়ার সবচেয়ে ভালো বাড়ে ২৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর নিচে নামলে কী হয়, সেটাও ওই পর্যালোচনায় স্পষ্ট বলা আছে:
- ✓১৫ ডিগ্রির নিচে: বৃদ্ধি প্রায় থেমে যায়। গাছ মরে না, কিন্তু কাটার পর আগের গতিতে ফিরে আসে না।
- ✓১০ ডিগ্রিতে: বৃদ্ধি একেবারেই বন্ধ। নেপিয়ার শীতে সুপ্ত হয়ে যায় এবং তুষারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
- ✓পানি: ওই একই পর্যালোচনা বলছে নেপিয়ার সবচেয়ে ভালো ফলন দেয় বছরে ৭৫০ থেকে ২,৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে। শীতের মাসগুলোতে বাংলাদেশে বৃষ্টি প্রায় থাকেই না, তাই সেচ না দিলে তাপমাত্রার পাশাপাশি পানিও সীমা হয়ে দাঁড়ায়।
এখন প্রশ্নটা হয়ে দাঁড়ায় সহজ: আপনার এলাকায় বছরে কত দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রির নিচে থাকে? সেই দিনগুলোই আপনার ঘাটতির দিন। এবং এই হিসাবটা আন্দাজের বিষয় নয়, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্বাভাবিক মান থেকে সরাসরি গোনা যায়।
২. আপনার এলাকায় কত দিন, সংখ্যায়
নিচের হিসাবটা বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের স্বাভাবিক মান (climate normals) থেকে করা, যা কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি বা BAMIS দিনভিত্তিক টেবিল আকারে প্রকাশ করে। প্রতিটি স্টেশনের ৩৬৫ দিনের স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গুনে দেখা হয়েছে কত দিন সেটি ১৫ ডিগ্রির নিচে থাকে।
| আবহাওয়া স্টেশন | বছরে কত দিন ১৫° সে. এর নিচে |
জানুয়ারির গড় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা |
|---|---|---|
| শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) | ৯৬ দিন | ৯.৭° সে. |
| দিনাজপুর | ৯১ দিন | ১০.৫° সে. |
| ঈশ্বরদী (পাবনা) | ৮৮ দিন | ১০.৪° সে. |
| রাজশাহী | ৮৫ দিন | ১১.০° সে. |
| রংপুর | ৮৩ দিন | ১০.৯° সে. |
| সৈয়দপুর (নীলফামারী) | ৮১ দিন | ১০.৬° সে. |
| চুয়াডাঙ্গা | ৭৭ দিন | ১০.৬° সে. |
| যশোর | ৭৪ দিন | ১১.১° সে. |
| বগুড়া | ৬৫ দিন | ১১.৮° সে. |
| টাঙ্গাইল | ৬৪ দিন | ১১.৪° সে. |
| ময়মনসিংহ | ৬৩ দিন | ১২.০° সে. |
| কুমিল্লা | ৬২ দিন | ১২.২° সে. |
| বরিশাল | ৬১ দিন | ১২.১° সে. |
| ফরিদপুর | ৬১ দিন | ১২.২° সে. |
| সিলেট | ৬০ দিন | ১২.৯° সে. |
| সাতক্ষীরা | ৫৯ দিন | ১২.৩° সে. |
| খুলনা | ৫৪ দিন | ১২.৫° সে. |
| ঢাকা | ৪৭ দিন | ১৩.১° সে. |
| চট্টগ্রাম | ৩২ দিন | ১৪.০° সে. |
| কক্সবাজার | ০ দিন | ১৫.২° সে. |
তিনটি জিনিস এখানে চোখে পড়ে। এক, ফারাকটা বিশাল: কক্সবাজারে স্বাভাবিক হিসাবে একটি দিনও ১৫ ডিগ্রির নিচে নামে না, আর শ্রীমঙ্গলে নামে ৯৬ দিন। দুই, উত্তরাঞ্চলে ঘাটতিটা প্রায় তিন মাসের, দক্ষিণ ও পূর্বে দেড় থেকে দুই মাসের। তিন, এই ২০টি স্টেশনের মধ্যে একমাত্র শ্রীমঙ্গলেই স্বাভাবিক সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নামে, জানুয়ারিতে ১০ দিন। অর্থাৎ ওখানেই কেবল নেপিয়ারের বৃদ্ধি স্বাভাবিক হিসাবে পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার মাত্রায় পৌঁছায়, বাকি সব জায়গায় সেটা থেমে যাওয়া, বন্ধ হওয়া নয়।
সংখ্যাগুলো যাচাই করতে চাইলে করতে পারেন। এগুলো আমাদের নিজের মাপা নয়, আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত মান থেকে গোনা, আর গোনার কোডটি এই সাইটের সোর্স কোডে খোলা রাখা আছে, ফাইলটির নাম scripts/fodder-calendar-data.mjs, যাতে যে কেউ আবার চালিয়ে মিলিয়ে নিতে পারেন।
৩. শীতে শুধু ঠান্ডা নয়, বৃষ্টিও থাকে না
তাপমাত্রার হিসাবটা অর্ধেক গল্প। বাকি অর্ধেক বৃষ্টির, আর সেটা আরও কঠিন। একই সূত্র থেকে নেওয়া স্বাভাবিক বৃষ্টির হিসাবে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি, এই চার মাসে কত বৃষ্টি হয়:
| স্টেশন | নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি | সারা বছর | বছরের কত অংশ |
|---|---|---|---|
| সৈয়দপুর | ২৬ মিমি | ২,০৮৬ মিমি | ১.২% |
| রংপুর | ২৯ মিমি | ২,২১৩ মিমি | ১.৩% |
| দিনাজপুর | ৩০ মিমি | ১,৯৫২ মিমি | ১.৫% |
| বগুড়া | ৩৪ মিমি | ১,৭৪৮ মিমি | ১.৯% |
| সিলেট | ৭৭ মিমি | ৪,১২৬ মিমি | ১.৯% |
| ঢাকা | ৬১ মিমি | ২,০৭০ মিমি | ২.৯% |
| চট্টগ্রাম | ৯৪ মিমি | ২,৯৪৫ মিমি | ৩.২% |
| কক্সবাজার | ১০৯ মিমি | ৩,৬১১ মিমি | ৩.০% |
সিলেটের সারিটা আলাদা করে দেখার মতো। সিলেট বাংলাদেশের সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল জায়গাগুলোর একটি, বছরে ৪,১২৬ মিলিমিটার। অথচ শীতের চার মাসে সেখানেও পড়ে মাত্র ৭৭ মিলিমিটার। অর্থাৎ বেশি বৃষ্টির এলাকা মানেই শীতে নিরাপদ নয়, কারণ বৃষ্টিটা বছরের অন্য অংশে পড়ে থাকে।
কক্সবাজারের সারিটা আবার উল্টো শিক্ষা দেয়। সেখানে ঠান্ডার ঘাটতি শূন্য, কিন্তু শীতের চার মাসে বৃষ্টি বছরের মাত্র ৩ শতাংশ। তাই উপকূলে সেচহীন ঘাসের প্লট শীতে তাপমাত্রার কারণে নয়, পানির কারণে পিছিয়ে পড়ে। সমস্যাটা দুই কারণে আসে, আর অঞ্চলভেদে কোনটা আগে ধরবে সেটা বদলায়।
৪. বর্ষার সমস্যাটা উল্টো দিকের
বছরের বৃষ্টির প্রায় ৭২ শতাংশ পড়ে জুন থেকে সেপ্টেম্বরের চার মাসে। তাই বর্ষায় ঘাসের অভাব থাকে না, বরং উল্টোটা। কিন্তু খাদ্য হিসাব মিলতে গেলে যা লাগে, সেটা ঘাসের গাদা নয়, শুষ্ক পদার্থ।
ভেজা ঘাসে পানির অংশ বেশি, তাই গরু পেট ভরে খেয়েও কম শুষ্ক পদার্থ পায়। এর সাথে যোগ হয় মাঠ ডুবে যাওয়া, খড় ভিজে নষ্ট হওয়া আর হঠাৎ কচি ভেজা ঘাস বেশি খাওয়ানোয় পেট ফাঁপা। বিস্তারিত নিয়ম আছে বর্ষাকালের খাদ্য ব্যবস্থাপনার গাইডে, আর ফাঁপার তাৎক্ষণিক করণীয় আছে পেট ফাঁপার গাইডে।
দুটো ঋতু মিলিয়ে ছবিটা দাঁড়ায় এই রকম: বছরের এক অংশে পরিমাণ বেশি কিন্তু মান কম, আরেক অংশে মান-পরিমাণ দুটোই কম। বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা ২০১৪ সালে বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্সে ঠিক এই কথাটাই লিখেছিলেন, যে দেশের খাদ্য সমস্যার একটা বড় অংশ হলো খাদ্য উৎপাদন আর পশুর কাছে তার প্রাপ্যতার সময়ের অমিল। তাঁদের হিসাবে আঁশজাতীয় খাদ্যের গড় ঘাটতি ৫৬.২ শতাংশ আর দানাদারের ঘাটতি ৮০.০ শতাংশ।
৫. ১২ মাসের ক্যালেন্ডার
নিচের হিসাবে আবহাওয়ার সংখ্যাগুলো বগুড়ার স্বাভাবিক মান, কারণ এটি দেশের মাঝামাঝি একটি চিত্র দেয়। আপনার এলাকা উত্তরে হলে ঠান্ডার মাসগুলো আরও লম্বা ধরুন, উপকূলে হলে ছোট।
| মাস | আবহাওয়া (বগুড়া, স্বাভাবিক) |
খেত ও ঘাসের অবস্থা | খামারির করণীয় |
|---|---|---|---|
| জানুয়ারি | সর্বনিম্ন ১১.৮°, বৃষ্টি ৫ মিমি, ৩১ দিনই ১৫° এর নিচে | ঘাস কার্যত বাড়ে না, বোরো রোপণ চলছে | সংরক্ষিত খাদ্যের উপর ভরসা, ঠান্ডায় শক্তির চাহিদা বাড়ে |
| ফেব্রুয়ারি | সর্বনিম্ন ১৪.৪°, বৃষ্টি ১৩ মিমি, ১৪ দিন ১৫° এর নিচে | ঘাস ধীরে ফিরতে শুরু করে, খড়ের মজুত কমে আসে | মজুত কতদিন চলবে গুনে নিন, শেষ মুহূর্তে কিনতে হলে দর বেশি পড়ে |
| মার্চ | সর্বনিম্ন ১৮.৮°, বৃষ্টি মাত্র ১৬ মিমি | গরম ফিরেছে কিন্তু পানি নেই, সেচ ছাড়া ঘাস আটকে থাকে | এটি শুকনো ঘাটতি, ঠান্ডার নয়। সেচের ব্যবস্থা না থাকলে ঘাটতি চলতেই থাকে |
| এপ্রিল | সর্বনিম্ন ২২.৮°, সর্বোচ্চ ৩৩.৯°, বৃষ্টি ৭৯ মিমি | বৃষ্টি ফিরতে শুরু করে, বোরো কাটা শুরু, রবি ভুট্টা কাটার সময় | হিট স্ট্রেস শুরু, গরমের গাইড দেখুন |
| মে | সর্বনিম্ন ২৪.২°, বৃষ্টি ২১৩ মিমি | ঘাস দ্রুত বাড়ছে, বোরোর খড় উঠছে | খড় শুকিয়ে ঠিকভাবে গাদা দিন, সারা বছরের ভিত্তি এটাই |
| জুন | সর্বনিম্ন ২৫.৯°, বৃষ্টি ৩২৬ মিমি | বর্ষা শুরু, ঘাস প্রচুর কিন্তু ভেজা | ভেজা ঘাস ধীরে বাড়ান, পেট ফাঁপার ঝুঁকি |
| জুলাই | সর্বনিম্ন ২৬.১°, বৃষ্টি ৩৬৫ মিমি, বছরের সর্বোচ্চ | মাঠ ডোবার সময়, আমন রোপণ চলছে | খড় ও দানাদার শুকনো রাখুন, বন্যাপ্রবণ হলে আগেই সরিয়ে রাখুন |
| আগস্ট | সর্বনিম্ন ২৬.৫°, বৃষ্টি ২৮৭ মিমি | ঘাস বেশি, শুষ্ক পদার্থ কম | শুধু কাঁচা ঘাসে চললে দুধ পড়ে যায়, আঁশের ভারসাম্য দেখুন |
| সেপ্টেম্বর | সর্বনিম্ন ২৫.৮°, বৃষ্টি ২৮৮ মিমি | বর্ষা শেষের দিকে, আমন খেতে | শীতের পরিকল্পনা শুরু করার আসল সময় এখানেই |
| অক্টোবর | সর্বনিম্ন ২৩.৩°, বৃষ্টি ১৪০ মিমি | বৃষ্টি দ্রুত কমছে, রবি ভুট্টা বপনের সময় শুরু | মজুত করে ফেলুন। ঘাটতি শুরুর আগের শেষ সহজ মাস এটাই |
| নভেম্বর | সর্বনিম্ন ১৮.৪°, বৃষ্টি নেমে ৯ মিমি | আমন কাটা, নতুন খড় উঠছে, ঘাস ধীর হচ্ছে | খড় উঠলেও সেটি আঁশ, আমিষ নয়। রেশনের হিসাব এখনই ঠিক করুন |
| ডিসেম্বর | সর্বনিম্ন ১৩.৮°, বৃষ্টি ৭ মিমি, ২০ দিন ১৫° এর নিচে | ঘাস থেমে যাচ্ছে, বোরো রোপণ শুরু | ঘাটতি শুরু। এখন খুঁজতে নামলে দাম ও সরবরাহ দুটোই কঠিন |
হলুদ দাগ দেওয়া চারটি মাসই আসল ঘাটতির মাস। লক্ষ করুন সেপ্টেম্বর আর অক্টোবরের ঘরে করণীয় লেখা আছে "পরিকল্পনা" ও "মজুত", অথচ ওই দুই মাসে মাঠে ঘাস আছে। ঠিক এই কারণেই কাজটা বেশিরভাগ খামারে পিছিয়ে যায়: যখন ব্যবস্থা নেওয়ার সময়, তখন সমস্যাটা চোখে দেখা যায় না।
ফসলের তারিখগুলো কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চাষপদ্ধতি অনুযায়ী। রবি মৌসুমে ভুট্টা বপন হয় ১৫ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে, আর খরিফ-১ মৌসুমে ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ। অর্থাৎ ভুট্টা সাইলেজের কাঁচামাল বছরে গোনা কয়েকটা জানালায় ওঠে, অথচ চাহিদা ওঠে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিতে। যে খাদ্য জানুয়ারিতে খাওয়ানো হয়, সেটি জানুয়ারিতে খেত থেকে আসে না, অনেক আগেই কেটে সংরক্ষণে রাখা হয়। সংরক্ষিত খাদ্যের পুরো ধারণাটাই এই সময়ের ফারাক মেটানোর জন্য।
৬. কত লাগবে, আর কবে ঠিক করবেন
এবার হিসাবটা টাকায় নামানো যাক। একটি প্রাপ্তবয়স্ক গরুর দৈনিক আঁশজাতীয় খাদ্য লাগে শরীরের ওজনের ৩ থেকে ৪ শতাংশ। ৪০০ কেজির একটি দুধের গাভীর ক্ষেত্রে সেটা দিনে প্রায় ১৬ কেজি। ঘাটতির দিনগুলোতে এই পরিমাণটা মাঠ থেকে আসবে না, ভাণ্ডার থেকে আসতে হবে।
| এলাকা | ঠান্ডার ঘাটতির দিন | একটি ৪০০ কেজি গাভীর জন্য ১৬ কেজি/দিন ধরে |
৫০ কেজির বস্তায় |
|---|---|---|---|
| দিনাজপুর | ৯১ দিন | প্রায় ১,৪৫৬ কেজি | প্রায় ২৯ বস্তা |
| রংপুর | ৮৩ দিন | প্রায় ১,৩২৮ কেজি | প্রায় ২৭ বস্তা |
| বগুড়া | ৬৫ দিন | প্রায় ১,০৪০ কেজি | প্রায় ২১ বস্তা |
| ঢাকা | ৪৭ দিন | প্রায় ৭৫২ কেজি | প্রায় ১৫ বস্তা |
| চট্টগ্রাম | ৩২ দিন | প্রায় ৫১২ কেজি | প্রায় ১০ বস্তা |
এই সংখ্যাগুলো সৎভাবে পড়া দরকার। এটি ওই দিনগুলোর পুরো আঁশের হিসাব, আর বাস্তবে খামারি এর একটা অংশ খড় দিয়ে, একটা অংশ সংরক্ষিত কাঁচা খাদ্য দিয়ে, কিছুটা অবশিষ্ট ঘাস দিয়ে মেটান। তাই এটি "কত কিনতে হবে" নয়, "কতটা ফাঁকা জায়গা পূরণ করতে হবে" তার মাপ। নিজের ওজন ও পশুর সংখ্যা বসিয়ে হিসাব করতে চাইলে সাইলেজ ক্যালকুলেটর আছে, আর ওজন অনুযায়ী পরিমাণের বিস্তারিত আছে খাওয়ানোর পরিমাণের গাইডে।
পুরোটা খড় দিয়ে চালানো যায় কি না, সেই প্রশ্নটা এখানেই আসে। পেট ভরে, কিন্তু হিসাব মেলে না। ওই একই বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্সের গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছে দেশের গড় প্রাণিখাদ্য দেয় ২.৩২ শতাংশ হজমযোগ্য আমিষ, অথচ ন্যূনতম দরকার ৪.৫০ শতাংশ। অর্থাৎ গড় খামারের রেশন আমিষে প্রায় অর্ধেক পিছিয়ে, আর শীতে খড়ের অংশ বাড়লে সেই ফারাকটা আরও বাড়ে। খনিজের দিকটা আলাদা, সেটা আছে খনিজ ও লবণের গাইডে।
খামারভেস্ট সাইলেজ এই ফাঁকা জায়গাটার জন্যই, পুরো রেশনের বদলি হিসেবে নয়। ৫০ কেজির এয়ারটাইট বস্তা, না খুললে দীর্ঘদিন ভালো থাকে, তাই অক্টোবরে নেওয়া মাল জানুয়ারিতে খাওয়ানোর জন্য রেখে দেওয়া যায়। বস্তা খোলার পর নিয়মগুলো আলাদা, সেগুলো আছে সংরক্ষণের গাইডে। আর কেনার আগে কী কী দেখে নেওয়া উচিত তার তালিকা আছে মান যাচাইয়ের গাইডে।
৭. এই হিসাবে যা নেই
একটা ক্যালেন্ডার যত পরিষ্কার দেখায়, বাস্তব তত পরিষ্কার নয়। কোথায় কোথায় এই হিসাব আলাদা হতে পারে, সেটা বলে রাখা দরকার।
- এগুলো স্বাভাবিক মান, এ বছরের আবহাওয়া নয়স্বাভাবিক মান মানে বহু বছরের গড়। কোনো বছর শীত দেরিতে আসে, কোনো বছর আগেই। তাই ৬৫ দিন মানে "এ বছর ঠিক ৬৫ দিন" নয়, বরং "সাধারণত এই মাপের একটা ঘাটতি ধরে রাখুন"।
- সেচ থাকলে ছবিটা বদলায়, তবে অর্ধেকটাইসেচ দিলে শুকনো মাসের পানির সীমাটা কাটে, বিশেষ করে মার্চে। কিন্তু সেচ তাপমাত্রা বদলাতে পারে না, তাই ডিসেম্বর ও জানুয়ারির ঠান্ডার ঘাটতি সেচেও যায় না।
- ১৫ ও ১০ ডিগ্রির সীমা নেপিয়ার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যালোচনা থেকেএটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বহু দেশের তথ্য মিলিয়ে করা পর্যালোচনা, বাংলাদেশে করা মাঠ পরীক্ষা নয়। জাত ভেদে আচরণ কিছুটা আলাদা হয়, আর দেশি ঘাস ও অন্যান্য প্রজাতির সীমা ভিন্ন হতে পারে।
- স্টেশন মানে জেলা নয়প্রতিটি সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট আবহাওয়া স্টেশনের। ঈশ্বরদী পাবনায়, শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজারে। জেলার এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে কয়েক ডিগ্রি তফাত হতে পারে, বিশেষ করে হাওর ও নদীতীরে।
- এটি পুষ্টিমানের দাবি নয়এই গাইডটি সময়ের হিসাব নিয়ে, কোনো নির্দিষ্ট পণ্যের পুষ্টিমান নিয়ে নয়। সাইলেজের DM, CP ও TDN নিয়ে আলাদা আলোচনা আছে পুষ্টিমানের গাইডে, আর সেখানেও বলা আছে কোন সংখ্যা কোথা থেকে এসেছে।
এতকিছুর পরেও মূল কথাটা বদলায় না। ঘাটতি আসবেই, তারিখটা মোটামুটি জানা, আর প্রস্তুতির সময়টা ঘাটতির আগে। শীতের গরুর যত্নের বাকি দিকগুলো আছে শীতকালীন খাদ্য ব্যবস্থাপনার গাইডে আর ঠান্ডার ঝুঁকির গাইডে।
খামারভেস্ট Facebook পেজ
মৌসুমি খাদ্য পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্নোত্তর ও স্টক আপডেট দেখতে যুক্ত হন।
তথ্যসূত্র
- BAMIS, কৃষি আবহাওয়া তথ্য পদ্ধতি: আবহাওয়া অধিদপ্তরের দৈনিক স্বাভাবিক তাপমাত্রা ও বৃষ্টির মান
- Frontiers in Plant Science ২০২৩: নেপিয়ার ঘাসের ব্যবস্থাপনা, ফলন ও পুষ্টিমান
- Huque ও Sarker ২০১৪, Bangladesh Journal of Animal Science ৪৩(১): বাংলাদেশে প্রাণিখাদ্যের জোগান ও ঘাটতি
- কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর: ভুট্টা চাষের পদ্ধতি ও বপনের সময়