
এক কথায় উত্তর
মহিষও জাবর কাটা প্রাণী, তাই সাইলেজ গরুর মতোই হজম করে। বাংলাদেশে মহিষের মূল খাদ্য ধানের খড়, যাতে শক্তি ও প্রোটিন দুটোরই ঘাটতি। অথচ মহিষের দুধে ফ্যাট ৭.৯০%, গরুর দুধে ৪.৩০%। অর্থাৎ দাম বেশি পাওয়ার সুযোগটা আছে, আটকে আছে শুধু খাদ্যে।
১. মহিষ পালনের আসল সমস্যাটা পশু নয়, খাদ্য
মহিষ নিয়ে একটা ধারণা চালু আছে যে ওরা কম দুধ দেয়। প্রকাশিত গবেষণা অন্য কথা বলে। বাংলাদেশের মহিষ পালনের পর্যালোচনায় স্পষ্ট লেখা আছে, মহিষের মূল খাদ্য ধানের খড় ও ফসলের অবশিষ্টাংশ, যা শক্তি ও প্রোটিনের ঘাটতিযুক্ত নিম্নমানের আঁশ। দানাদার বা খনিজ মিশ্রণ সাধারণত দেওয়াই হয় না, আর দিনের বেলা প্রাকৃতিক চারণভূমি, পতিত জমি বা রাস্তার ধারে চরানো হয়।
একই পর্যালোচনার ভাষায়, মানসম্মত খাদ্য, ঘাস ও চারণভূমির অভাবেই পুষ্টির ঘাটতি হয় এবং সে কারণেই মহিষের উৎপাদন কম থাকে। অর্থাৎ কম দুধের কারণ মহিষ নয়, রেশন।
২. মহিষের দুধ কেন বেশি দামে বিক্রি হয়
এই জায়গাটা বোঝা দরকার, কারণ খাদ্যে টাকা খরচ করা যুক্তিসঙ্গত কি না তা এর উপরেই নির্ভর করে। একই পর্যালোচনার তুলনামূলক তালিকা:
| উপাদান | মহিষের দুধ | গরুর দুধ |
|---|---|---|
| ফ্যাট | ৭.৯০% | ৪.৩০% |
| মোট কঠিন পদার্থ | ১৬.৩০% | ১৩.১০% |
| প্রোটিন | ৪.২০% | ৩.৬০% |
| ল্যাকটোজ | ৫.০০% | ৪.৮০% |
ঘি, দই ও মিষ্টির ক্রেতা মূলত ফ্যাটের দাম দেন, আর মহিষের দুধে ফ্যাট প্রায় দ্বিগুণ। একই পর্যালোচনায় মহিষের দোহনকাল ২৭০ দিন ও মোট দুধ ৭৯৯ লিটার দেখানো হয়েছে, যেখানে তুলনার গরুতে ২১৫ দিনে ৪৩৫ লিটার। অর্থাৎ ভালো রেশন পেলে মহিষ দীর্ঘ সময় ধরে বেশি দামের দুধ দেয়।
৩. খড়ের রেশনে ঠিক কী নেই
খড় খারাপ খাদ্য নয়, কিন্তু খড় দিয়ে পুরো রেশন চালানো যায় না। খড়ে মূলত শুকনা আঁশ, শক্তি ও প্রোটিন সামান্য। মহিষ পেট ভরে ফেলে, অথচ দুধ বানানোর কাঁচামাল পায় না।
ভুট্টা সাইলেজে আঁশের সাথে দানার শক্তিও আসে, কারণ আস্ত গাছ দানা ও মোচাসহ সংরক্ষণ করা হয়। তাই খড়ের জায়গায় সাইলেজ বসালে ঘাটতির বড় অংশ পূরণ হয়। তবে সাইলেজও একা সব নয়, প্রোটিন ও খনিজের ঘাটতি দানাদার ও খৈল থেকেই আসতে হবে, বিস্তারিত আছে দানাদার খাদ্যের গাইডে। খড়, সাইলেজ ও দানাদারের তিন কাজের ভাগ দেখুন এই তুলনায়।
৪. মহিষকে দৈনিক কত কেজি সাইলেজ
মহিষের জন্য আলাদা কোনো জাদুর নিয়ম নেই, গরুর নিয়মেই শুরু করুন: ওজনের প্রায় ৪%। মহিষ সাধারণত গরুর চেয়ে ভারী হয়, তাই কেজির অঙ্কটাও বড় হবে।
| মহিষের ওজন | দৈনিক সাইলেজ (শুরুর হিসাব) | সাথে যা লাগবে |
|---|---|---|
| ৪০০ কেজি | প্রায় ১৬ কেজি | ১-২ কেজি খড় + দানাদার ও খনিজ |
| ৫০০ কেজি | প্রায় ২০ কেজি | ১-২ কেজি খড় + দানাদার ও খনিজ |
| ৬০০ কেজি | প্রায় ২৪ কেজি | ২ কেজি খড় + দানাদার ও খনিজ |
ওজন আন্দাজ না করে ফিতা দিয়ে মেপে নিন, আর কত বস্তা লাগবে বের করতে সাইলেজ ক্যালকুলেটর ব্যবহার করুন। খামারভেস্ট সাইলেজের ৫০ কেজি বস্তা ধরে হিসাবটা সরাসরি বেরিয়ে আসবে।
প্রথমবার দিলে হঠাৎ পুরো পরিমাণ নয়। ৭ দিনের নিয়ম মহিষের ক্ষেত্রেও একই, কারণ রুমেনের জীবাণুর দল বদলাতে সময় লাগে, প্রাণীটা গরু না মহিষ তাতে কিছু যায় আসে না।
৫. মহিষের ক্ষেত্রে যে তিনটি বিষয় আলাদা
- ১কাদা-পানি ও ছায়া লাগে: মহিষের ঘাম কম হয়, তাই গরমে কাদায় গা ডোবানো ওদের ঠান্ডা থাকার উপায়। পানি বা ছায়া না থাকলে খাওয়াই কমে যায়, তখন যত ভালো সাইলেজই দিন কাজে আসবে না।
- ২চরানো হলে সাইলেজ পরিপূরক, বিকল্প নয়: বাংলাদেশে বেশিরভাগ মহিষ আধা-নিবিড় পদ্ধতিতে চরে খায়। দিনে কতটা চরল তার উপর ভিত্তি করে সাইলেজের পরিমাণ কমান-বাড়ান, পাত্রে পড়ে থাকলে কমান।
- ৩উপকূল ও বন্যাপ্রবণ এলাকায় মৌসুমি সংকট: মহিষের বড় অংশ উপকূল ও প্লাবনভূমিতে, যেখানে বর্ষায় চারণভূমি ডুবে যায়। এয়ারটাইট বস্তার সাইলেজ ঠিক ওই মাসগুলোর জন্যই, কারণ না-খোলা বস্তা ৬-১২ মাস ভালো থাকে। নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনা ও কক্সবাজারে খামারভেস্ট সাইলেজের ডেলিভারি আছে।
৬. যে সতর্কতাগুলো গরুর মতোই
সাইলেজের নিয়মগুলো প্রাণী বদলালেও বদলায় না: খোলা বস্তা ২-৩ দিনে শেষ করুন, ছত্রাক ধরা বা গরম হয়ে যাওয়া অংশ বাদ দিন, আর গর্ভবতী মহিষকে সন্দেহজনক সাইলেজ একেবারেই দেবেন না। কারণটা রাসায়নিক, নষ্ট সাইলেজে এসিড কমে গেলে যে জীবাণু বাড়ে তা গর্ভপাত ঘটাতে পারে, বিস্তারিত নষ্ট সাইলেজ চেনার গাইডে। সংরক্ষণের পুরো নিয়ম আছে এই গাইডে।
খামারভেস্ট Facebook পেজ
সাইলেজের ছবি, স্টক আপডেট ও খামারিদের প্রশ্নোত্তর দেখতে ফেসবুকে যুক্ত হন।