
এক কথায় উত্তর
DM মানে খাদ্যে পানি বাদে যা থাকে, CP মানে প্রোটিন, আর TDN মানে পশু যতটুকু হজম করে কাজে লাগাতে পারে। ভুট্টা সাইলেজের প্রকাশিত মাপে শুষ্ক পদার্থ প্রায় ৩২-৩৫% আর ক্রুড প্রোটিন প্রায় ৭-৮%। তবে এই সংখ্যাগুলো ব্যাচে ব্যাচে বদলায়, তাই ল্যাব রিপোর্ট ছাড়া কোনো বিক্রেতার সংখ্যাই যাচাই করা যায় না।
১. শব্দগুলো আসলে কী বোঝায়
গো-খাদ্যের বিজ্ঞাপনে ইংরেজি সংক্ষেপগুলো এমনভাবে লেখা হয় যেন সবাই জানে। আসলে অর্থগুলো সহজ:
- DM, ড্রাই ম্যাটার বা শুষ্ক পদার্থখাদ্য থেকে পুরো পানিটুকু সরিয়ে নিলে যা পড়ে থাকে। সাইলেজের বেশিরভাগই পানি, তাই ২০ কেজি সাইলেজ মানে ২০ কেজি খাবার নয়। সব পুষ্টির হিসাব এই শুষ্ক পদার্থের উপরেই করা হয়।
- CP, ক্রুড প্রোটিনখাদ্যে মোট প্রোটিনের পরিমাণ, শুষ্ক পদার্থের শতাংশে। দুধ উৎপাদন ও বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন দরকার, কিন্তু সাইলেজ মূলত শক্তির উৎস, প্রোটিনের নয়।
- TDN, মোট হজমযোগ্য পুষ্টিখাদ্যের যে অংশটুকু পশু আসলে হজম করে কাজে লাগাতে পারে। একটা কথা কম বলা হয়: TDN সরাসরি মাপা যায় না, ল্যাবে অন্যান্য পরিমাপ থেকে হিসাব করে বের করতে হয়। তাই TDN-এর একটা সংখ্যা মানেই তার পেছনে একটা ল্যাব রিপোর্ট থাকার কথা।
- NDF ও স্টার্চNDF মানে আঁশের পরিমাণ, আর স্টার্চ আসে দানা থেকে। ভুট্টা সাইলেজে দানা থাকে বলেই এতে আঁশের সাথে স্টার্চের শক্তিটাও পাওয়া যায়, যেটা শুধু ঘাস বা খড়ে নেই।
এই শব্দগুলোসহ খামারে ব্যবহৃত আরও ২০টি শব্দের সহজ ব্যাখ্যা আছে গো-খাদ্যের শব্দকোষে।
২. ভুট্টা সাইলেজের প্রকাশিত সাধারণ মান
নিচের সংখ্যাগুলো FAO-র প্রকাশিত গবেষণাপত্রে ভুট্টা সাইলেজের মাপা মান। এগুলো ভুট্টা সাইলেজ জিনিসটার সাধারণ মান, কোনো নির্দিষ্ট বিক্রেতার পণ্যের স্পেসিফিকেশন নয়, খামারভেস্ট সাইলেজেরও নয়:
| বিষয় | প্রকাশিত মান | খামারির জন্য মানে |
|---|---|---|
| শুষ্ক পদার্থ (DM) | ৩২ - ৩৪.৮% | বাকি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পানি। ৩০% এর নিচে হলে গাঁজন বিপথে যায়। |
| ক্রুড প্রোটিন (CP) | ৭.৩৭ - ৮.৩২% | প্রোটিনের মূল জোগান সাইলেজ নয়, দানাদার ও খৈল থেকে আসতে হবে। |
| pH | ৩.২ - ৩.৯৬ | ভালো গাঁজনের প্রমাণ। টক ভাব যত ঠিক, সংরক্ষণ তত ভালো। |
| শুষ্ক পদার্থে দানার অংশ | প্রায় ৩৭.৫% | দানা যত কম, সাইলেজ তত দুর্বল। এটি চোখেই দেখা যায়। |
| শক্তির কত অংশ দানা থেকে | প্রায় ৫০% | দানা ছাড়া শুধু গাছ দিয়ে বানানো সাইলেজে শক্তির অর্ধেকটাই নেই। |
শেষ দুটো সারি সবচেয়ে কাজের, কারণ এগুলো যাচাই করতে ল্যাব লাগে না। FAO বলছে ভুট্টা সাইলেজের মোট পুষ্টিমানের প্রায় অর্ধেকই আসে দানা থেকে। তাই বস্তা খুলে দানা চোখে পড়ছে কি না, সেটাই সবচেয়ে সহজ মানের পরীক্ষা। খামারভেস্ট সাইলেজ আস্ত ভুট্টা গাছ দানা ও মোচাসহ চপ করে বানানো হয়, এই কারণেই।
৩. একই সাইলেজের সংখ্যা ব্যাচে ব্যাচে বদলায়
এখানেই বিজ্ঞাপনের সংখ্যাগুলোর সমস্যা। সাইলেজ কারখানায় ছাঁচে ফেলা পণ্য নয়, এটি একটি ফসল, আর তার পুষ্টিমান অন্তত পাঁচটা জিনিসের উপর নির্ভর করে:
- ১কাটার সময়: দানা দুধ থেকে খামির অবস্থায় কাটা হয়েছে, নাকি আগে বা পরে।
- ২দানার পরিমাণ: মোচা কতটা ভরেছিল। FAO-র মাপেই একই ফসলের দুই ধরনে দানার অংশ ছিল ৩৭.৫% আর ৫৩%।
- ৩চপ ও চাপ: কতটা মিহি চপ হয়েছে আর কতটা চেপে ভরা হয়েছে।
- ৪সিল কতটা নিখুঁত: FAO-র মাপে ভালোভাবে সিল করা সাইলোতে শুষ্ক পদার্থের ক্ষতি ছিল ৪ থেকে ৭.৫%, আর যেখানে বাতাস ঢুকেছিল সেখানে ৩৬% পর্যন্ত।
- ৫কতদিন ও কীভাবে রাখা হয়েছে: বস্তা খোলার পর প্রতিদিনই মান বদলাতে থাকে।
চার নম্বরটা লক্ষ করার মতো। একই সাইলেজ, শুধু সিল ভালো না হওয়ায় শুষ্ক পদার্থের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত হারিয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ বিজ্ঞাপনে লেখা সংখ্যা যাই হোক, আপনার গোয়ালে পৌঁছানো বস্তাটা কেমন অবস্থায় এল সেটাই শেষ কথা। এজন্যই ডেলিভারির দিনেই বস্তা পরীক্ষা করে নেওয়ার কথা বলা হয়।
৪. সংখ্যা দেখলে যে ৪টি প্রশ্ন করবেন
কোনো বিক্রেতা TDN, প্রোটিন বা অন্য কোনো সংখ্যা দিলে ভদ্রভাবে এই চারটা জিজ্ঞাসা করুন। উত্তরগুলোই বলে দেবে সংখ্যাটা পরিমাপ নাকি প্রচার:
- কোন ল্যাবে পরীক্ষা হয়েছে?প্রতিষ্ঠানের নাম থাকলে সেটি যাচাই করা যায়। নাম না থাকলে সংখ্যাটির পেছনে কোনো পরিমাপ নেই ধরে নেওয়াই নিরাপদ।
- কোন ব্যাচের নমুনায়, কোন তারিখে?দুই বছর আগের এক ব্যাচের রিপোর্ট আজকের বস্তার মান প্রমাণ করে না।
- রিপোর্টের কপি দেখতে পারি?যার রিপোর্ট আছে তার দেখাতে আপত্তি থাকার কথা নয়।
- দানা কতটা আছে?এটির উত্তর আপনি নিজেই মিলিয়ে নিতে পারবেন, বস্তা খুললেই দানা চোখে পড়ে কি না দেখে।
৫. খামারভেস্ট এখানে কী দাবি করে আর কী করে না
উপরের প্রশ্নগুলো আমাদের নিজেদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে খাটে, তাই সোজাসুজি বলি: খামারভেস্ট সাইলেজের নিজস্ব ল্যাব রিপোর্ট এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সেই কারণে আমরা আমাদের সাইলেজের TDN বা প্রোটিনের কোনো সংখ্যা দাবি করি না। যেদিন পরীক্ষা করানো হবে, রিপোর্টসহ এই পাতাতেই তা যোগ করা হবে।
যা যাচাই করা যায়, আমরা সেটুকুই লিখি: দাম প্রতি কেজি ১০ টাকা, ৫০ কেজির এয়ারটাইট বস্তা ৫০০ টাকা, আস্ত ভুট্টা গাছ দানা ও মোচাসহ, পণ্য হাতে পেয়ে টাকা, আর বস্তা খোলার দিনেই নিজে মিলিয়ে দেখার জন্য ৬টি পরীক্ষার তালিকা। কোন বিক্রেতার কাছ থেকেই বা কী কী জেনে নেওয়া উচিত, সেটির পূর্ণ তালিকা আছে নিরাপদে সাইলেজ কেনার গাইডে।
সংখ্যা দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেওয়া সহজ। আমরা বরং যেটুকু প্রমাণ করা যায় সেটুকু বলি, কারণ খামারি যে বস্তাটা হাতে পান সেটাই আমাদের সম্পর্কে শেষ কথা বলে।
খামারভেস্ট Facebook পেজ
সাইলেজের ছবি, স্টক আপডেট ও খামারিদের প্রশ্নোত্তর দেখতে ফেসবুকে যুক্ত হন।