খামারি গাইড · ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ব্যাগ, ড্রাম, পিট না বাংকার: কোন পদ্ধতিতে সাইলেজ রাখবেন

পাল ছোট হলে মুখ খোলা পদ্ধতির ঝুঁকি বেশি। কোন পদ্ধতিতে সাইলেজ রাখবেন, পালের আকার, মুখ সরানোর হার ও ক্ষতির সূত্রভিত্তিক হিসাব এক গাইডে।

এয়ারটাইট ৫০ কেজি বস্তায় ভুট্টা সাইলেজ

এক কথায় উত্তর

যে পদ্ধতিতেই রাখুন, তিনটি শর্ত একই: বাতাস আটকানো, ঠাসা করে চাপা, আর খোলা মুখ দ্রুত শেষ করা। উইসকনসিন এক্সটেনশনের লক্ষ্য, খাওয়ানোর সময় ক্ষতি ৩%-এর কম, আর তার জন্য বাংকার বা পিটের মুখ দিনে অন্তত ১৫ সেমি (৬ ইঞ্চি) সরাতে হবে। সাইলো ব্যাগে ন্যূনতম দিনে ৩০ সেমি (১২ ইঞ্চি)। তাই পশু যত কম, মুখ খোলা পদ্ধতি তত অসুবিধার। ছোট খামারের জন্য সাধারণত ছোট, আলাদা প্যাকেটের পদ্ধতি (৫০ কেজির বস্তা বা ড্রাম) মানায়, আর বাংকার মানায় বড় পালে, যেখানে প্রতিদিন বড় মুখ সরানো যায়।

১. সব পদ্ধতির জন্য একই তিনটি শর্ত

কোন পদ্ধতি ভালো তার আগে বুঝতে হবে সাইলেজ কীভাবে নষ্ট হয়। গাঁজন শেষ হলে সাইলেজ টিকে থাকে বাতাস ঢুকতে না পারায়। বাতাস ঢুকলেই খামিরা (ইস্ট) ও ছত্রাক জেগে ওঠে, সাইলেজ গরম হয় আর নষ্ট হতে থাকে। ব্যবস্থাপনা আসলে তিনটি কাজ:

  1. বাতাস আটকানো। কানসাস স্টেটের গবেষণায় বাংকার, ট্রেঞ্চ বা স্তূপের উপরের ২ থেকে ৪ ফুট ঢাকা না থাকলে ক্ষতি যে কেউ যা ভাবে তার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে। সেখানে পলিথিন ঢাকনা ও ওজনের জন্য পাশাপাশি টায়ার ব্যবহারের কথা আছে।
  2. ঠাসা করে চাপা। উইসকনসিনের এক্সটেনশন লক্ষ্য নিয়েছে প্রতি ঘনফুটে ৪৫ পাউন্ডের বেশি (তাজা ওজনে), অর্থাৎ ঘনমিটারে প্রায় ৭২০ কেজি। ঘনত্ব কম হলে ভেতরে বাতাস বেশি ঢোকে।
  3. খোলা মুখ দ্রুত শেষ করা। মুখ খোলা মানেই বাতাস ঢোকা। উইসকনসিনের লেখায় আছে, বাংকার বা স্তূপের মুখে সাইলেজ সর্বোচ্চ ৩ দিন ঢাকা ছাড়া থাকতে পারে, আর চার দিন খোলা থাকা সাইলেজ খাওয়ার পর গাভীর খাওয়া ৩৮% কমে গিয়েছিল।

সাইলেজ কীভাবে তৈরি হয় আর বন্ধ বস্তার ভেতরে কী ঘটে, তা আছে সাইলেজ তৈরির গাইড। এই গাইড শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর: তৈরি হওয়া সাইলেজ কোথায় রাখবেন।

২. আপনার পালের জন্য মুখ কতটা সরাতে হবে

পদ্ধতি বাছার আসল মাপকাঠি পালের আকার, কারণ পাল ঠিক করে প্রতিদিন কতটা সাইলেজ লাগবে, আর সেটাই ঠিক করে মুখ কতটা সরবে। নিচের হিসাব আমাদের নিজেদের, দুটি জিনিস মিলিয়ে: উইসকনসিনের ঘনত্ব ও সরানোর হার, আর এই সাইটের নিয়মিত হিসাব দৈনিক গাভীপ্রতি ২০ কেজি সাইলেজ।

সূত্র: দৈনিক প্রয়োজন ÷ (দিনে সরানোর গভীরতা × ঘনত্ব)। উইসকনসিনের হারে দিনে ১৫ সেমি (০.১৫ মিটার) সরালে ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৭২০ কেজি ধরে প্রতি বর্গমিটার মুখ থেকে দিনে প্রায় ১০৮ কেজি বের হয়।

গাভীর সংখ্যাদৈনিক প্রয়োজনদরকারি মুখের আয়তন (দিনে ১৫ সেমি সরালে)দিনে ১০ সেমি সরালে (গরমকালের সর্বনিম্ন)
৫টি১০০ কেজিপ্রায় ০.৯ বর্গমিটারপ্রায় ১.৪ বর্গমিটার
১০টি২০০ কেজিপ্রায় ১.৯ বর্গমিটারপ্রায় ২.৮ বর্গমিটার
২৫টি৫০০ কেজিপ্রায় ৪.৬ বর্গমিটারপ্রায় ৬.৯ বর্গমিটার
৫০টি১০০০ কেজিপ্রায় ৯.৩ বর্গমিটারপ্রায় ১৩.৯ বর্গমিটার

এ থেকে একটা সোজা কথা বেরোয়: ৫টি গাভীর জন্য প্রায় ১ মিটার প্রস্থ ও ১ মিটার গভীর একটি পিট বা ট্রেঞ্চের মুখই দিনে ১৫ সেমি সরালে চলে। কিন্তু ছোট মুখেও বাতাস ও পানি রোধী ঢাকনা দেওয়া কঠিন, যা পরের অংশে দেখুন। ঘনত্ব এই ৭২০ কেজির চেয়ে কম হলে প্রতি সেমিতে কম কেজি বের হয়, তাই আসল মুখ আরও বড় লাগবে। এটি আনুমানিক হিসাব, নিজের পিটের মাপ নিয়ে একবার মিলিয়ে নিন।

উইসকনসিনের আরেকটি হিসাব বড় সাইলো ব্যাগের জন্য: ৮ ফুট ব্যাসের ব্যাগের এক ফুট সরালে প্রায় ৬৫০ পাউন্ড (প্রায় ২৯৫ কেজি) শুষ্ক পদার্থ পাওয়া যায়, যা মার্কিন গাভীর দৈনিক ২৬ পাউন্ড শুষ্ক পদার্থ ধরে প্রায় ২৫টি গাভীকে খাওয়ায়। ভুট্টা সাইলেজে শুষ্ক পদার্থ প্রায় ৩০-৩৫% আর আমাদের গাভীর দৈনিক ২০ কেজি সাইলেজে প্রায় ৬-৭ কেজি শুষ্ক পদার্থ ধরলে সংখ্যাটা প্রায় ৪০-৫০টি গাভীতে দাঁড়ায়। অর্থাৎ বড় সাইলো ব্যাগও ছোট পালের জন্য নয়।

৩. পাঁচ পদ্ধতি: কোনটার কী সুবিধা, কী ঝুঁকি

ক. ৫০ কেজির এয়ারটাইট বস্তা

এখানে প্রতিটি বস্তাই আলাদা ছোট সাইলো, তাই "মুখ" বলে কিছু নেই, বস্তা খুললেই সেটাকে ২-৩ দিনে শেষ করতে হয়। খামারভেস্ট সাইলেজ এভাবেই আসে: এয়ারটাইট ৫০ কেজি বস্তা, না-খোলা অবস্থায় ৬-১২ মাস, খোলার পর ২-৩ দিন। ৫০ কেজির বস্তা একটি গাভীর দৈনিক ২০ কেজিতে প্রায় ২.৫ দিন চলে, অর্থাৎ ১টি গাভী থেকেই এটি কাজ করে। একটি ছাগলের দৈনিক ১.৫ কেজিতে অবশ্য প্রায় ৩৩ দিন লাগবে, তাই ছাগল-ভেড়ার একক খামারে বস্তা খোলার পর শেষ করা যায় না, ক্যালকুলেটরে "একটা বস্তা কত দিন চলবে" দেখে নিন: সাইলেজ ক্যালকুলেটর। দাম ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজির বস্তা ৪২৫ টাকা, মজুদের জন্য বাংকারের মতো কাঠামো বানাতে হয় না, শুধু ছায়া ও শুকনো পাটাতন লাগে।

ঝুঁকি একটাই: বস্তা ফুটো হলে বাতাস ঢোকে। উইসকনসিনের সাইলো ব্যাগের নির্দেশনায় (ক্রেইগ স্যাক্স) নিয়মিত ফুটো দেখা, পেলেই বিশেষ প্যাচ-টেপে বন্ধ করা, ইঁদুর ও পোষা প্রাণী থেকে দূরে রাখা আর পরিষ্কার রাখার কথা আছে। বস্তা রাখার নিয়ম আছে সংরক্ষণের গাইড।

খ. বড় সাইলো ব্যাগ (টিউব ব্যাগ)

এতে বিশেষ যন্ত্র দিয়ে কুচি করা ভুট্টা ঠেসে বড় প্লাস্টিকের নলে ভরা হয়। উইসকনসিনের হোমস (২০০৩) লিখেছেন, এটি নমনীয়: চাহিদা অনুযায়ী ব্যাগ বাড়ানো-কমানো যায় আর ছোট কাঠামোর খরচ কম, তবে সেখানেও খাওয়ানোর জায়গার কাছে রাখা, সমতল শক্ত পাটাতন ও ফুটো মেরামত লাগে। যন্ত্র ভাড়া বা কেনা ছাড়া ভরা যায় না, তাই আমাদের মতো ছোট খামারের জন্য এটি সহজ পথ নয়।

গ. ড্রাম ও বালতি

FAO সম্মেলনের সারসংক্ষেপে ক্রান্তীয় ছোট খামারের জন্য বর্ণিত পাত্রের মধ্যে আছে ইস্পাত বা প্লাস্টিকের ড্রাম, বড় কংক্রিট পাইপ, আর সারের প্লাস্টিক বস্তা। সেখানে বলা হয়েছে প্লাস্টিক বস্তা বা প্লাস্টিক-আস্তরযুক্ত তেলের ড্রাম বাতাস আটকানোর সমস্যা মেটাতে পারে, তবে এগুলো ও কুচি করার যন্ত্র ব্যয়বহুল ধরা হয়েছে। ড্রামের সুবিধা ছোট আকার: ঢাকনা খুললে সামান্য সাইলেজ খোলা পড়ে, তাই কম পশুর খামারেও দ্রুত শেষ করা সম্ভব। ড্রামের জন্য আমরা কোনো মাপা ক্ষতির হার পাইনি।

ঘ. পিট বা ট্রেঞ্চ (মাটির গর্ত)

সবচেয়ে প্রচলিত বলে এটাই সবচেয়ে বেশি ভুল হয়। FAO সম্মেলনের সারসংক্ষেপে ছোট খামারিদের পিট, ট্রেঞ্চ ও মাটির উপরের স্তূপ এড়িয়ে চলার কারণ বলা হয়েছে, বাতাস ও পানি দুটোই রোধ হয় এমনভাবে ঢাকা কঠিন। একই আলোচনায় প্লাস্টিক শিটও ব্যয়বহুল ধরা হয়েছে। কানসাস স্টেটের গবেষণায় ঢাকা না থাকলে উপরের ২-৪ ফুটে বড় ক্ষতি দেখা গেছে। অর্থাৎ পিটে সাইলেজ রাখা সম্ভব, কিন্তু ঢাকনা ও পানি নিষ্কাশনে মনোযোগ না দিলে বড় অংশ নষ্ট হবে।

ঙ. বাংকার (পাকা দেয়ালঘেরা স্তূপ)

উইসকনসিনের হোমস লিখেছেন, বাংকার ও স্তূপ বেছে নেওয়া হয় বড় পরিমাণ সাইলেজের জন্য। এগুলো চাপার জন্য ট্রাক্টর ও চালক, আর বায়ু ও বৃষ্টি-রোধী ঢাকনা ছাড়া সাইলেজ ভালো থাকে না। কাঠামোর খরচ বেশি, তাই প্রায় ২০ বছর ব্যবহার করলে যুক্তিসংগত, ৫-১০ বছরে ছেড়ে দিলে বার্ষিক খরচের হিসাবে খারাপ। এর মুখ বড়, তাই বড় পালে দিনে ১৫ সেমি সরানো সহজ, আর খাওয়ানোর সময় মুখ এবড়োখেবড়ো হলে আরও ১-৩% ক্ষতি যোগ হয় (উইসকনসিন)।

৪. তুলনা ছক

ছকে খরচের কোনো টাকার অঙ্ক নেই, কারণ আমরা যাচাই করা বাংলাদেশি দাম পাইনি। শুধু কোথায় খরচ ঘটে তা লেখা হয়েছে।

পদ্ধতিকোন পালের জন্যমুখ সরানোর শর্তমূল ঝুঁকিখরচ কোথায় ঘটে
৫০ কেজির বস্তা১টি গরু থেকে ছোট-মাঝারি পালমুখ নেই, খুললে ২-৩ দিনে শেষফুটো, ইঁদুরবস্তার প্লাস্টিক; কাঠামো নেই
বড় সাইলো ব্যাগবড় পাল (প্রায় ৪০-৫০ গাভী, উপরের হিসাবে)দিনে অন্তত ৩০ সেমিপ্লাস্টিক ফুটো বা ফাটা, ওই ব্যাগের উপরের অংশ কম ঘনযন্ত্র, বড় প্লাস্টিক নল, শক্ত পাটাতন
ড্রাম/বালতিছোট পালছোট মুখ, কয়েক দিনে শেষবাতাস আটকানো, ঢাকনার মানপাত্র ও কুচি করার যন্ত্র
পিট/ট্রেঞ্চছোট থেকে মাঝারি, যদি ঢাকনা ঠিক থাকেদিনে অন্তত ১৫ সেমিবাতাস-পানি রোধী ঢাকনা কঠিন (FAO)খনন, প্লাস্টিক শিট (ব্যয়বহুল ধরা হয়েছে), শ্রম
বাংকারবড় পালদিনে অন্তত ১৫ সেমি, গরমে ১০ সেমি সর্বনিম্নঢাকনা, চাপার মান, ভাঙা মুখপাকা কাঠামো, ট্রাক্টর, চালক, ঢাকনা

৫. ক্ষতি কতটা হয়: সূত্রে কী মাপা আছে

সূত্রের মধ্যে সবচেয়ে ভালো মাপ আছে সাইলো ব্যাগের, আর সেটিও ছড়ানো: ৪৭টি ব্যাগে মোট শুষ্ক পদার্থের ক্ষতি ০.৩% থেকে ৩৯.৯%, গড় ১৪.৬%। উইসকনসিনের মাক ও হোমসের (২০০৬) ওই গবেষণায় সবচেয়ে খারাপ ছয়টি ব্যাগ বাদ দিলে গড় নামে ১১.৬%-এ, আর সেই খারাপ ব্যাগের একটিতে পাখির ক্ষতি (৩০.৬% ক্ষতি), আরেকটিতে গাঁজনের গোড়ায় প্লাস্টিক ফেটে গিয়েছিল (৩৯.৯%)। বেশি ক্ষতি সাধারণত এসেছে প্লাস্টিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা গরমে শুকনো সাইলেজ খাওয়ানো থেকে। গবেষণা বলছে ব্যাগের উপরের বাইরের অর্ধেকের ঘনত্ব নিচের মাঝের অংশের মাত্র প্রায় ৪০%, তাই উপরের ফুটো সবচেয়ে ক্ষতিকর।

গড় ১৪.৬% ছিল "ভালোভাবে চালানো বাংকারের" কাছাকাছি, লেখকদের ভাষায়। খাওয়ানোর সময়ের জন্য লক্ষ্য ৩%-এর কম, আর তার শর্ত ঘনত্ব ৪০-৫০ পাউন্ড প্রতি ঘনফুট (প্রায় ৬৪০-৮০০ কেজি প্রতি ঘনমিটার) এবং মুখ দিনে ১৫ সেমির বেশি সরানো।

আমরা যা পাইনি: পিট, ড্রাম বা ৫০ কেজির বস্তার জন্য বাংলাদেশে মাপা কোনো ক্ষতির হার। তাই এগুলোর পাশে কোনো শতাংশ বসাইনি, আর অন্য কোথাও এমন সংখ্যা দেখলে সূত্র চেয়ে নিন। পচন চিনতে নষ্ট সাইলেজ চেনার গাইড কাজে লাগবে।

৬. কীভাবে বাছবেন: ছয় ধাপে

  1. প্রতিদিন কত সাইলেজ লাগবে ঠিক করুন, সাইলেজ ক্যালকুলেটর থেকে।
  2. একটি বস্তা কত দিনে শেষ হবে দেখুন। ২-৩ দিনের মধ্যে শেষ হলে বস্তাই সবচেয়ে সোজা।
  3. বস্তায় সাইলেজ শেষ হতে অনেক দিন লাগলে (ছাগল-ভেড়া বা একটি গরু, তাও কম) প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগ করুন বা ছোট পাত্র ভাবুন।
  4. পিট করতে চাইলে মুখের মাপ ও ঢাকনার পানি-নিষ্কাশন আগে ঠিক করুন, এবং ওই মুখ দিনে ১৫ সেমি সরবে কি না মিলিয়ে নিন।
  5. বাংকার বা টিউব ব্যাগ ভাবুন শুধু যদি পাল অনেক বড় আর ট্রাক্টর, শ্রম ও যন্ত্র নিশ্চিত।
  6. নিজে বানাবেন কি কিনবেন, তা কিনবেন নাকি নিজে বানাবেন-তে। সাইলেজ পরিবহনের খরচ আছে পরিবহন খরচের গাইড-এ। আর বানাতে হলে সময় ঠিক করুন ভুট্টা চাষ ও কাটার গাইড থেকে, উপকরণ নিয়ে মোলাসেস, ইউরিয়া ও ইনোকুলেন্টের গাইড।

আপনার জেলায় ডেলিভারি নিয়ে জানতে এলাকার তালিকা দেখুন। খামারভেস্ট সাইলেজ তালিকাভুক্ত জেলাগুলোর সব উপজেলায় ৫০ কেজির বস্তায় পৌঁছায়, পরিবহন প্রতি অর্ডারে আলাদা, ন্যূনতম অর্ডার নেই, এক বস্তাও চলে।

সাধারণ প্রশ্ন

ছোট খামারে সাইলেজ রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় কী?

৫০ কেজির এয়ারটাইট বস্তা। প্রতিটি বস্তা নিজেই ছোট সাইলো, তাই বড় মুখ প্রতিদিন সরানোর দরকার নেই। না-খোলা বস্তা ৬-১২ মাস ভালো থাকে, খোলার পর ২-৩ দিনে শেষ করতে হয়। একটি গাভীর দৈনিক ২০ কেজিতে একটি বস্তা প্রায় আড়াই দিন চলে।

সাইলেজের মুখ দিনে কতটা সরাতে হবে?

উইসকনসিন এক্সটেনশনের নির্দেশনায় বাংকার ও স্তূপে দিনে ৬ ইঞ্চির (প্রায় ১৫ সেমি) বেশি, গরমে অন্তত ৪ ইঞ্চি (প্রায় ১০ সেমি), শীতে ৩ ইঞ্চি (প্রায় ৭.৫ সেমি)। সাইলো ব্যাগে অন্তত ১২ ইঞ্চি (প্রায় ৩০ সেমি)। খাওয়ানোর সময় ক্ষতি ৩%-এর কম রাখতে এই হার দরকার।

সাইলো ব্যাগে সাইলেজের ক্ষতি কত হয়?

উইসকনসিনের ৪৭টি ব্যাগের গবেষণায় ০.৩% থেকে ৩৯.৯%, গড় ১৪.৬%। সবচেয়ে খারাপ ছয়টি বাদ দিলে গড় ১১.৬%। বেশি ক্ষতি প্লাস্টিক ফুটো বা ফাটা, কিংবা গরমে শুকনো সাইলেজ খাওয়ানো থেকে এসেছে।

মাটির পিটে সাইলেজ রাখা কি ভালো?

সম্ভব, কিন্তু কঠিন। FAO সম্মেলনের সারসংক্ষেপ বলছে, ছোট খামারিরা পিট ও ট্রেঞ্চ এড়ান কারণ বাতাস ও পানি দুটোই রোধ হয় এমনভাবে ঢাকা কঠিন। কানসাস স্টেটের গবেষণায় ঢাকা না থাকলে উপরের ২-৪ ফুটে বড় ক্ষতি দেখা গেছে। মুখ দিনে ১৫ সেমি সরবে কি না আগে হিসাব করুন।

ড্রামে সাইলেজ রাখা যায়?

যায়। FAO সম্মেলনে ইস্পাত বা প্লাস্টিকের ড্রামকে ছোট খামারের পাত্র হিসেবে বলা হয়েছে, আর প্লাস্টিক-আস্তরযুক্ত তেলের ড্রাম বাতাস আটকানোর সমস্যা মেটাতে পারে বলা হয়েছে। তবে ড্রামের ক্ষতির হার আমরা মাপা অবস্থায় পাইনি, আর ঢাকনা ঠিক বসানো জরুরি।

বাংকার কত গাভীর পালে মানায়?

এর কোনো একক সংখ্যা সূত্রে নেই, তবে হিসাব সোজা: প্রতিদিন যত সাইলেজ লাগে তা ১০৮ কেজি/বর্গমিটার-দিনে ভাগ দিন (উইসকনসিনের ১৫ সেমি ও ৭২০ কেজি/ঘনমিটার ধরে)। ১০টি গাভীর (২০০ কেজি) জন্য প্রায় ১.৯ বর্গমিটার মুখ লাগে। বাংকারের কাঠামো খরচ বেশি, তাই ২০ বছর ব্যবহার না হলে সেটি ভাবনার।

সাইলেজের ঘনত্ব কত হওয়া উচিত?

উইসকনসিন এক্সটেনশনের লক্ষ্য প্রতি ঘনফুটে ৪৫ পাউন্ডের বেশি তাজা ওজন, অর্থাৎ ঘনমিটারে প্রায় ৭২০ কেজি। ৪০-৫০ পাউন্ড ঘনত্ব আর দিনে ৬ ইঞ্চির বেশি মুখ সরালে খাওয়ানোর সময় ক্ষতি ৩%-এর কম রাখা যায়।

খামারভেস্ট সাইলেজ কোন পদ্ধতিতে আসে?

এয়ারটাইট ৫০ কেজির বস্তায়। না-খোলা অবস্থায় ৬-১২ মাস ভালো থাকে, খোলার পর ২-৩ দিন। দাম ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজি বস্তা ৪২৫ টাকা, পণ্য হাতে পেয়ে টাকা। পরিবহন খরচ প্রতি অর্ডারে আলাদা।

খামারভেস্ট Facebook পেজ

সাইলেজ রাখার নিয়ম ও মৌসুমের আপডেট দেখতে যুক্ত হন।

পেজে ফলো দিন

তথ্যসূত্র

পরের ধাপ: সাইলেজ নিতে চাইলে

খামারভেস্ট সাইলেজ ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজি বস্তা ৪২৫ টাকা। আগে টাকা নয়, বস্তা হাতে পেয়ে টাকা; পরিবহন খরচ কনফার্মেশন কলে জানানো হয়।

WhatsApp নেই? নম্বর দিন, আমরা ফোন করে দাম ও পরিবহন খরচ জানাব

আগে কোনো টাকা দিতে হয় না। নম্বর শুধু এই যোগাযোগের জন্য আমাদের কাছে থাকে।

সম্পর্কিত গাইড

সাইলেজ কেনার আগে

আপনার জেলায় সাইলেজ: দাম ও ডেলিভারি

জেলা বেছে নিন, সেখানে কীভাবে অর্ডার ও ডেলিভারি হয় দেখে নিন।

খামারভেস্ট সাইলেজ (Khamarvest Silage)

এয়ারটাইট বস্তায় সাইলেজ নিতে চান?

না-খোলা বস্তা ৬-১২ মাস ভালো থাকে। ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজি বস্তা ৪২৫ টাকা, পণ্য হাতে পেয়ে টাকা।

WhatsApp-এ কথা বলুন

৮.৫০ টাকা কেজিহাতে পেয়ে টাকা

কল করুন WhatsApp-এ অর্ডার