খামারি গাইড · ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সাইলেজে মোলাসেস, ইউরিয়া ও ইনোকুলেন্ট: কখন লাগে, কখন নয়

ভুট্টায় গাঁজনের চিনি আগে থেকেই থাকে, তাই সাইলেজে মোলাসেস, ইউরিয়া বা লবণ সাধারণত লাগে না। কোন ফসলে কোন উপকরণ কাজে লাগে, আর কোনটায় ক্ষতি, সূত্র ধরে তার হিসাব।

দানাসহ কুচি করা ভুট্টা সাইলেজ

এক কথায় উত্তর

ভুট্টা সাইলেজে সাধারণত মোলাসেস, ইউরিয়া বা লবণ লাগে না, কারণ ভুট্টায় গাঁজনের জন্য দরকারি চিনি আগে থেকেই যথেষ্ট থাকে। মোলাসেস লাগে কম চিনির ফসলে, যেমন নেপিয়ার ও অন্য ঘাসে। ইউরিয়া সাইলেজ সংরক্ষণের উপকরণ নয়, কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় এটি শুষ্ক পদার্থের ক্ষতি বাড়িয়েছে। ইনোকুলেন্ট ভুট্টায় থাকলে ভালো, না থাকলেও চলে, তবে ঘাস বা ডালজাতীয় ফসলে এর কাজ বেশি স্পষ্ট। সবার আগে দরকার ঠিক সময়ে কাটা আর বাতাস আটকানো, কোনো উপকরণ এই দুটোর বদলি নয়। খামারভেস্ট সাইলেজে কোনো মোলাসেস, ইউরিয়া, লবণ বা ইনোকুলেন্ট মেশানো হয় না: শুধু কুচি করা ভুট্টা গাছ, বায়ুরোধী বস্তায় নিজে থেকেই গাঁজানো।

১. ভুট্টা সাইলেজে কেন সাধারণত কিছু লাগে না

সাইলেজ টেকে ল্যাকটিক অ্যাসিডে। বাতাসহীন অবস্থায় গাছের চিনি ভেঙে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি করে দ্রুত অম্লতা (pH) নামিয়ে আনে, আর তখন পচনের জীবাণু থেমে যায়। তাই কাঁচামালে চিনি যত কম, গাঁজন তত দুর্বল।

FAO-র "ক্রান্তীয় অঞ্চলে সাইলেজ তৈরি" সম্মেলনের ভূমিকা অংশে বলা হয়েছে, ক্রান্তীয় অঞ্চলের C4 ঘাসে দ্রবণীয় শর্করা কম থাকে, ব্যতিক্রম শুধু ভুট্টা ও সরগাম। তাই সাইলেজের মান আসল হলে ঘাসের বদলে ভুট্টা বা সরগাম চাষের কথাই সেখানে ভাবতে বলা হয়েছে। কেন্টাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন নিবন্ধেও (ডোনা আমারাল-ফিলিপস) একই কথা: ভুট্টা ও সরগামে ইনোকুলেন্টের সাড়া অস্পষ্ট ছিল, কারণ গাছে ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরির মতো যথেষ্ট দ্রবণীয় শর্করা আগে থেকেই থাকে।

তবে সব বিশেষজ্ঞ একমত নন, আর সেটা জানা দরকার। কানসাস স্টেটের গবেষকেরা (বোলসেন ও সহকর্মীরা, ১৯৯৬) ২০০টিরও বেশি পরীক্ষাগার গবেষণা ও ২৮টি খামারভিত্তিক পরীক্ষা দেখে বলেছেন, ভুট্টা ও সরগামও সহজে সাইলেজ হয়, তবু ব্যাকটেরিয়া-ইনোকুলেন্টে গাঁজনের দক্ষতা ও শুষ্ক পদার্থ ফিরে পাওয়া ভালো হয়েছে। কেন্টাকির লেখাও মানছে, পরিস্থিতি আদর্শ না হলে ইনোকুলেন্ট "বিমার মতো" কাজ করতে পারে। অর্থাৎ প্রশ্নটা "কাজ করে কি না" নয়, প্রশ্ন হলো খরচের তুলনায় লাভ কতটা।

আমাদের দেশে ভুট্টার মান নির্ভর করে কাটার সময়ের উপর, উপকরণের উপর নয়। কখন কাটলে দানা ও আর্দ্রতা ঠিক থাকে তা আছে ভুট্টা চাষ ও কাটার গাইড। আর ঠিকভাবে তৈরির ধাপগুলো আছে সাইলেজ তৈরির গাইড।

২. এক নজরে: কোন উপকরণ কী করে

নিচের ছকটি উপরের সূত্রগুলোর সারকথা। "ঝুঁকি" ঘরে সেটাই লেখা, যা সূত্রে পাওয়া গেছে।

উপকরণকী কাজ করেভুট্টায়কম চিনির ফসলে (ঘাস, লতা)সূত্রে পাওয়া ঝুঁকি
মোলাসেসগাঁজনের জন্য বাড়তি চিনি জোগায়সাধারণত দরকার নেইFAO: চিনি কম হলে মোলাসেস বা অন্য চিনির উৎস যোগ করা যায়সূত্রে পরীক্ষিত মাত্রা কাঁচা ওজনের ২-৫%; কেনা, মাপা ও মেশানোর খরচ ও শ্রম যোগ হয়
ইউরিয়াপ্রোটিনের (নন-প্রোটিন নাইট্রোজেন) উৎসকানসাস স্টেট: দরকার নেইপরীক্ষাগারে নেপিয়ারে মোলাসেসের সঙ্গে পরীক্ষিতশুষ্ক পদার্থের ক্ষতি বাড়ে, pH বাড়ে (মোলাসেস ছাড়া); বিষক্রিয়ার ঝুঁকি
লবণকিছু খামারে শুধু মুখের উপরের স্তরে ছড়ানো হয়সূত্রে পুরো সাইলেজে মেশানোর নির্দেশনা নেইএকইমাত্রা নিয়ে সূত্রে বড় অমিল; পুরো সাইলেজে দেওয়ার প্রমাণ পাইনি
হোমোফারমেন্টেটিভ ইনোকুলেন্টদ্রুত ল্যাকটিক অ্যাসিড তৈরি, দ্রুত pH পতনউপকার আছে কি না নিয়ে মতভেদকানসাস স্টেট ও কেন্টাকি: ঘাস ও ডালে বেশি কার্যকরখোলার পর বাতাসে স্থিতি কমতে পারে
L. buchneri (হেটেরোফারমেন্টেটিভ)অ্যাসিটিক অ্যাসিড তৈরি করে ইস্ট কমায়, খোলার পর গরম হওয়া ঠেকায়খোলা মুখ ধীরে শেষ হলে কাজেরএকইশুষ্ক পদার্থ ফিরে পাওয়া কমতে পারে; গরুর উৎপাদনে উন্নতির প্রমাণ নেই

৩. মোলাসেস: কখন লাগে, কতটা

মোলাসেস লাগে তখনই, যখন কাঁচামালে চিনি কম। FAO-র সম্মেলনের ভূমিকায় ঠিক এটাই বলা: উপাদান মানসম্মত অথচ চিনি কম হলে মোলাসেস বা অন্য শর্করার উৎস মেশানো যায়। বাংলাদেশে এমন ফসলের উদাহরণ নেপিয়ার ঘাস ও অন্য সবুজ ঘাস, আর ডালজাতীয় ফসলও কম চিনি ও বেশি বাফার ক্ষমতার জন্য সাইলেজ করা কঠিন (কানসাস স্টেট)।

কত মোলাসেস, তার একটি সূত্রে-যাচাই করা উদাহরণ আছে জাপানের গবেষণায় (ইউনুস ও সহকর্মীরা, ২০০০, Asian-Australasian Journal of Animal Sciences)। তাঁরা নেপিয়ার ঘাস প্রায় ১ সেমি কুচি করে পরীক্ষাগারের সাইলোতে এক মাস ২৫ ডিগ্রিতে রেখেছিলেন। কাঁচা ঘাসের ওজনের ২% ও ৫% মোলাসেসেই pH উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং ল্যাকটিক অ্যাসিড বেড়েছে। হিসাবে ২% মানে প্রতি টন ঘাসে ২০ কেজি, ৫% মানে ৫০ কেজি।

এটি পরীক্ষাগারের ফল, খামারের নির্দেশনা নয়। মাঠের অবস্থা, ঘাসের বয়স ও আর্দ্রতা আলাদা হলে ফল আলাদা হতে পারে। ঘাস থেকে সাইলেজ বানানোর পুরো তুলনা আছে নেপিয়ার ঘাস বনাম ভুট্টা সাইলেজ।

বাংলাদেশের একটি গবেষণাও আছে। ইসলাম ও সহকর্মীরা (২০১৮, Asian-Australasian Journal of Bioscience and Biotechnology) নেপিয়ার সাইলেজ তিন ভাবে বানিয়েছেন: সাধারণ, ইউরিয়া ও মোলাসেস যোগ করা, আর ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট (DCP) যোগ করা। ইউরিয়া-মোলাসেসে শুষ্ক পদার্থ সাধারণ সাইলেজের চেয়ে ১.৬৭% বেশি এবং ADF ১.৫৯% কম ছিল, তবে অ্যামোনিয়া-নাইট্রোজেনও ১.২৯% বেশি ছিল। লেখকেরা শেষে DCP-যুক্ত সাইলেজকেই খামারিদের জন্য উপকারী বলেছেন। সারসংক্ষেপে ইউরিয়া ও মোলাসেসের মাত্রা দেওয়া নেই, তাই আমরা কোনো মাত্রা বলছি না।

আরেকটি ভাবার কথা: কম চিনির ঘাসের সাইলেজে মোলাসেস কিনে মেশানোর খরচ, শ্রম ও ঝুঁকি যোগ হয়। ঘাস বা কম চিনির ফসল নিজে সাইলেজ করলে মোলাসেস কেনা, মাপা ও সমানভাবে মেশানোর খরচ ও শ্রম যোগ হয়। সেটা ধরে কিনবেন নাকি নিজে বানাবেন হিসাব করে দেখুন। আর তৈরি সাইলেজ কিনলে বস্তায় কিছু মেশানো হয়েছে কি না, যেকোনো বিক্রেতাকে এই প্রশ্ন করা উচিত, খামারভেস্ট সাইলেজ নিয়েও WhatsApp-এ করতে পারেন। খামারভেস্ট সাইলেজে কোনো মোলাসেস, ইউরিয়া, লবণ বা ইনোকুলেন্ট মেশানো হয় না: শুধু কুচি করা ভুট্টা গাছ, বায়ুরোধী বস্তায় নিজে থেকেই গাঁজানো।

৪. ইউরিয়া: প্রোটিনের উৎস, সংরক্ষণের উপকরণ নয়

সাইলেজে ইউরিয়া মেশালে প্রোটিন বাড়ে, কিন্তু সংরক্ষণ খারাপ হয়। কানসাস স্টেটের গবেষণা পত্রে প্রশ্ন ছিল, ইউরিয়া বা অ্যামোনিয়ার মতো নন-প্রোটিন নাইট্রোজেন কখন ব্যবহার করবেন। উত্তর ছিল "কখনো নয়", শুধু খুলে খাওয়ানোর সময় পচন ঠেকানোর অন্য কোনো উপায় না থাকলে ছাড়া। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে: এই যৌগ গাঁজনের সময় বাফারের কাজ করে, ফলে pH নামাতে বেশি ল্যাকটিক অ্যাসিড লাগে, আর তাই শুষ্ক পদার্থের ক্ষতি বাড়েই।

২৮টি খামারভিত্তিক পরীক্ষায় (৭১টি সাইলেজ) ইউরিয়া বা অ্যামোনিয়া গাঁজনের দক্ষতা, শুষ্ক পদার্থ ফিরে পাওয়া ও পশুর বৃদ্ধি কমিয়েছে, বেশি আর্দ্রতার সরগামে আরও বেশি। ইউরিয়া-মোলাসেস মিশ্রণের ক্ষতি ছিল তুলনায় কম।

ইউনুসদের নেপিয়ার পরীক্ষাতেও একই ছবি। মোলাসেস ছাড়া বা ২% মোলাসেসে ইউরিয়া pH বাড়িয়েছে (কাঁচা কচি ও আধশুকনো কচি ঘাসে)। ০.৬% ইউরিয়ার সঙ্গে ৫% মোলাসেস দিলে ফল ভালো ছিল। অর্থাৎ ইউরিয়ার ক্ষতি মোলাসেসের চিনি দিয়ে ঢাকার চেষ্টা, সূত্রে এভাবেই দেখা গেছে। এটিও পরীক্ষাগারের ফল, খামারের জন্য সুপারিশ নয়।

নিরাপত্তার কথাও আছে। ইউরিয়া সরাসরি বা অসমানভাবে গরুর পেটে গেলে বিষক্রিয়া হতে পারে। তাই প্রোটিন লাগলে খৈল বা ডাল-জাতীয় খাদ্যে যান, আর খড়ে ইউরিয়ার নিয়ম আলাদা: দেখুন খড়ে ইউরিয়া প্রক্রিয়াজাত করার গাইড ও খৈলের গাইড।

৫. লবণ: সাইলেজ নিয়ে প্রচলিত ধারণা কী বলছে

পুরো সাইলেজে লবণ মেশানো যে দরকার, এমন কোনো নির্দেশনা আমরা যাচাই করা সূত্রে পাইনি। যা পেয়েছি তা মূলত খোলা সাইলোর মুখের উপরের স্তর নিয়ে।

  • FAO সম্মেলনের ক্রান্তীয় শস্য ও ঘাসের সাইলেজ নিয়ে নিবন্ধে (আশবেল ও ওয়াইনবার্গ) লেখা আছে, ইসরায়েলের কিছু খামারে বাংকারের উপরের স্তরে প্রতি বর্গমিটারে ৩-৪ কেজি মোটা লবণ ছড়ানো হয়, সবচেয়ে পচনপ্রবণ অংশ বাঁচাতে।
  • নিউ হ্যাম্পশায়ারের এক কেস স্টাডিতে (ম্যাকলাফলিন ও সহকর্মীরা, ২০০২) ভুট্টার বাংকারে ১২১ বর্গমিটারের প্রতি অংশে ২২.৫ কেজি লবণ দেওয়া হয়েছিল, অর্থাৎ বর্গমিটারে প্রায় ০.১৯ কেজি। উপরের স্তরে pH ও জীবাণুর সংখ্যা কমার প্রবণতা দেখা গেছে, তবে সংখ্যাগুলো পাকা প্রমাণ নয়, লেখকেরা এটিকে সম্ভাব্য সাশ্রয়ী উপায় বলেছেন মাত্র।

দুটো সূত্রের মাত্রায় প্রায় ২০ গুণ তফাত। তাই লবণের কোনো নিরাপদ বা প্রমাণিত মাত্রা আমরা দিতে পারছি না। যেটুকু নিশ্চিত: লবণ বাতাস আটকানোর বিকল্প নয়। উপরের স্তর বাঁচাতে আসল কাজ প্লাস্টিক ঢাকনা, যা কানসাস স্টেটের গবেষণায় বারবার দেখানো হয়েছে।

সাইলেজের বস্তা বা ড্রামে লবণ মেশানোর কোনো উপকারের প্রমাণ আমরা পাইনি।

৬. ইনোকুলেন্ট: দুই ধরন, দুই কাজ

ইনোকুলেন্ট হলো উপকারী ব্যাকটেরিয়ার প্যাকেট, যা কাঁচামালে ছিটিয়ে গাঁজনকে সঠিক পথে ঠেলে দেয়। কিন্তু সব ইনোকুলেন্ট এক কাজ করে না, আর ভুল ধরন বেছে নিলে উল্টো ক্ষতিও হতে পারে।

হোমোফারমেন্টেটিভ: গাঁজন দ্রুত করে

কানসাস স্টেটের লেখায় এদের প্রজাতি ল্যাক্টোব্যাসিলাস প্লান্টারাম, পেডিওককাস ও এন্টেরোকক্কাস ফেসিয়াম। এরা চিনিকে প্রায় সবটাই ল্যাকটিক অ্যাসিডে বদলায়, তাই pH দ্রুত নামে, বিশেষ করে প্রথম ২-৪ দিনে। তাঁদের হিসাবে ২০০টিরও বেশি পরীক্ষাগার গবেষণার ৯০%-এর বেশি তুলনায় এটি উপকারী ছিল। কানসাস স্টেট সর্বনিম্ন মাত্রা বলেছে প্রতি গ্রাম কাঁচামালে অন্তত ১,০০,০০০ কলোনি-গঠনকারী একক (CFU)।

উল্টো দিক: কেন্টাকির এক্সটেনশন নিবন্ধ বলছে এই ধরনের ইনোকুলেন্টে সাইলেজে অ্যাসিটিক অ্যাসিড কম থাকে আর ইস্টের সংখ্যা বেশি, ফলে খোলার পর সাইলেজ ভাঙা মুখে গরম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। SDSU এক্সটেনশনও একই কথা বলেছে: সাধারণ ল্যাকটিক অ্যাসিড ব্যাকটেরিয়া গাঁজনের ক্ষতি কমায়, কিন্তু খাওয়ানোর সময় ক্ষতি প্রায়ই বাড়ায়। যে খামারে খাওয়ানোর সময়ই পচন সমস্যা, সেখানে এটি ঠিক পছন্দ নয়।

L. buchneri: খোলার পর টেকসই করে

ল্যাক্টোব্যাসিলাস বুখনেরি ল্যাকটিক অ্যাসিডের একটি অংশকে অ্যাসিটিক অ্যাসিডে বদলায়। অ্যাসিটিক অ্যাসিড ইস্ট ও ছত্রাক ঠেকায়, ফলে খোলা সাইলেজ কম গরম হয়। উইসকনসিন এক্সটেনশনের (কম্বস ও হফম্যান) ভাষায়, কার্যকর মাত্রা প্রতি গ্রাম কাঁচামালে প্রায় ৫ × ১০⁵ CFU পর্যন্ত। কেন্টাকির নিবন্ধে এর প্রভাব সাইলেজ বন্ধ করার ৩০ থেকে ৬০ দিন পর ধরা পড়ে, আর গবেষণার সারসংক্ষেপে ১,০০,০০০ CFU/গ্রামের বেশি মাত্রায় টেকসইতা বেড়েছে।

এর দাম আছে। উইসকনসিনের লেখা বলছে, এর গাঁজন শুষ্ক পদার্থ ফিরে পাওয়া কমাতে পারে, তাই যে সাইলেজ এমনিতেই বাতাসে স্থির থাকে সেখানে এটি কম আকর্ষণীয়। আর পশুর খাওয়া বা দুধ উৎপাদনে উন্নতি গবেষণায় দেখা যায়নি।

আমাদের গরম আবহাওয়ায় কোনটা ভাবনার

FAO সম্মেলনের একটি নিবন্ধে ইসরায়েলের গরম অঞ্চলের অভিজ্ঞতা থেকে বলা হয়েছে, গরমের দেশে বাতাসে স্থিতি পরীক্ষা নিয়মিত করা উচিত। সেখানে গমের সাইলেজে হোমোফারমেন্টেটিভ ইনোকুলেন্ট ঠিক ছিল না: ইনোকুলেন্ট দেওয়া সাইলেজ নিয়ন্ত্রণের চেয়ে দ্রুত নষ্ট হয়েছিল ও ইস্ট-ছত্রাক বেড়েছিল। L. buchneri নিয়ে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গিয়েছিল। একই নিবন্ধ জোর দিয়ে বলেছে, সংযোজক ব্যবহারের সিদ্ধান্ত স্থানীয় পরীক্ষার পর নেওয়া উচিত। এটি গমের কথা, ভুট্টার নয়, তবে গরম, ধীরে শেষ হওয়া মুখের ঝুঁকিটা আমাদের চৈত্র-বৈশাখেও সত্যি।

কেন্টাকির পরামর্শ কাজে লাগে: যেকোনো পণ্যের পক্ষে প্রমাণ চান, অর্থাৎ একই অবস্থায় ইনোকুলেন্টবিহীন সাইলেজের সঙ্গে তুলনা করা একাধিক গবেষণা।

৭. সিদ্ধান্তের ছক: আপনার সাইলেজে কী লাগবে

আগে ফসল দেখুন, তারপর উপকরণ ভাবুন। নিচের ছক সূত্রগুলোর সারকথা, আপনার মাঠের জন্য চূড়ান্ত নির্দেশনা নয়।

পরিস্থিতিমোলাসেসইউরিয়াইনোকুলেন্ট
দানাভরা অবস্থায় কাটা ভুট্টা, ঠিক আর্দ্রতাসাধারণত নয়নয়ঐচ্ছিক। অবস্থা আদর্শ না হলে "বিমা", খোলা মুখ ধীরে শেষ হলে L. buchneri ভাবা যায়
নেপিয়ার বা অন্য কম চিনির ঘাসসূত্রে ২-৫% (কাঁচা ওজনে) পরীক্ষিতপ্রোটিনের জন্য পরীক্ষিত, ক্ষতির ঝুঁকি আছে, তাই সাধারণ পছন্দ নয়ঘাসে কার্যকর (কানসাস স্টেট, কেন্টাকি), তবে কম চিনিতে কম কাজ করে (SDSU)
ডাল বা লতাজাতীয় ফসলকম চিনি ও বেশি বাফার ক্ষমতা, তাই চিনির উৎস সাহায্য করেনয়কানসাস স্টেট: গাঁজনে ঝুঁকি কমায়
খুব ভেজা ভুট্টা (আর্দ্রতা ৭০%-এর বেশি)না, চিনির অভাব এখানে সমস্যা নয়নযউপকরণ নয়, ঠিক সময়ে কাটাই সমাধান। ৭০%-এর বেশি আর্দ্রতায় রস ঝরে দ্রবণীয় পুষ্টি চলে যায় (উইসকনসিন সাইলো ব্যাগ গাইড)

একটা সতর্কতা: কেন্টাকির নিবন্ধ শুরুতেই বলেছে, ইনোকুলেন্টের সাফল্য সঠিক সময়ে কাটা, ঠিকভাবে চেপে বাতাস বের করা আর ঢাকনা দেওয়ার উপর নির্ভর করে। উপকরণ খারাপ ব্যবস্থাপনা শোধরায় না। সংরক্ষণের নিয়ম আছে সংরক্ষণের গাইড, আর কোন পদ্ধতিতে রাখবেন তার তুলনা কোন পদ্ধতিতে সাইলেজ রাখবেন-এ।

আর যদি নিজে বানানোর ঝামেলা না নিয়ে তৈরি সাইলেজ কিনতে চান: খামারভেস্ট সাইলেজ এয়ারটাইট ৫০ কেজি বস্তায়, ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজির বস্তা ৪২৫ টাকা, পণ্য হাতে পেয়ে টাকা। কত বস্তা লাগবে তা সাইলেজ ক্যালকুলেটর বলে দেবে।

সাধারণ প্রশ্ন

খামারভেস্ট সাইলেজে কি কিছু মেশানো হয়?

খামারভেস্ট সাইলেজে কোনো মোলাসেস, ইউরিয়া, লবণ বা ইনোকুলেন্ট মেশানো হয় না: শুধু কুচি করা ভুট্টা গাছ, বায়ুরোধী বস্তায় নিজে থেকেই গাঁজানো।

সাইলেজে মোলাসেস কি দিতেই হবে?

না। ভুট্টা ও সরগামে চিনি আগে থেকেই যথেষ্ট, তাই গাঁজন এমনিতেই চলে (FAO, কেন্টাকি এক্সটেনশন)। মোলাসেস লাগে নেপিয়ার ও অন্য কম চিনির ঘাসে। জাপানের পরীক্ষাগারের গবেষণায় নেপিয়ারে কাঁচা ওজনের ২% ও ৫% মোলাসেসে pH কমেছে।

ভুট্টা সাইলেজে কত মোলাসেস মেশাবো?

ভুট্টায় সাধারণত মোলাসেস লাগে না, তাই মাত্রা বলার মতো যাচাই করা নির্দেশনা আমরা পাইনি। কম চিনির ঘাসে একটি গবেষণায় ২% ও ৫% (প্রতি টনে ২০ ও ৫০ কেজি) পরীক্ষা হয়েছে, কিন্তু সেটি পরীক্ষাগারের ফল, খামারের সুপারিশ নয়।

সাইলেজে ইউরিয়া দেওয়া কি ভালো?

কানসাস স্টেটের গবেষণায় নয়। ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়া শুষ্ক পদার্থ ফিরে পাওয়া ও গাঁজনের দক্ষতা কমিয়েছে, কারণ এটি বাফারের কাজ করে। প্রোটিন লাগলে খৈল বা ডালজাতীয় খাদ্যের কথা ভাবুন। ইউরিয়া সরাসরি বা অসমানভাবে খাওয়ালে বিষক্রিয়ার ঝুঁকিও আছে।

সাইলেজে লবণ দিলে কি ভালো হয়?

পুরো সাইলেজে লবণ মেশানোর উপকারের প্রমাণ আমরা পাইনি। কিছু খামারে বাংকারের উপরের স্তরে লবণ ছড়ানো হয়, কিন্তু দুটি সূত্রে মাত্রা প্রায় ২০ গুণ আলাদা, তাই নির্ভরযোগ্য মাত্রা নেই। উপরের স্তর বাঁচাতে আসল কাজ প্লাস্টিক ঢাকনা।

ইনোকুলেন্ট কি ভুট্টা সাইলেজেও লাগে?

দরকার নেই বললেও চলে, কিন্তু উপকারও হতে পারে। কেন্টাকির লেখায় ভুট্টায় সাড়া অস্পষ্ট ছিল, আবার কানসাস স্টেট প্রতি বোঝাইয়ে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। পরিস্থিতি আদর্শ না হলে এটি বিমার মতো কাজ করতে পারে। সিদ্ধান্ত নিন খরচ ও আপনার অবস্থা দেখে।

হোমোফারমেন্টেটিভ আর L. buchneri ইনোকুলেন্টের তফাত কী?

হোমোফারমেন্টেটিভ ব্যাকটেরিয়া দ্রুত ল্যাকটিক অ্যাসিড বানিয়ে pH নামায়, গাঁজন ভালো করে, তবে খোলার পর স্থিতি কমতে পারে। L. buchneri অ্যাসিটিক অ্যাসিড বানিয়ে ইস্ট কমায় ও খোলা মুখ কম গরম হয়, কিন্তু এর প্রভাব ৩০-৬০ দিন পর দেখা যায় আর শুষ্ক পদার্থ ফিরে পাওয়া কমতে পারে।

গরমে খোলা সাইলেজ দ্রুত গরম হয়ে যায়, ইনোকুলেন্ট কি সমাধান?

আংশিক। L. buchneri খোলা সাইলেজের স্থিতি বাড়ায়, কিন্তু মূল সমাধান খোলা মুখ দ্রুত শেষ করা ও বাতাস কম লাগানো। ৫০ কেজির বস্তা খোলার পর ২-৩ দিনের মধ্যে খাইয়ে ফেলুন। বিস্তারিত সংরক্ষণের গাইডে।

খামারভেস্ট Facebook পেজ

মৌসুমের আগে সাইলেজ নিয়ে প্রশ্নোত্তর ও আপডেট দেখতে যুক্ত হন।

পেজে ফলো দিন

তথ্যসূত্র

পরের ধাপ: সাইলেজ নিতে চাইলে

খামারভেস্ট সাইলেজ ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজি বস্তা ৪২৫ টাকা। আগে টাকা নয়, বস্তা হাতে পেয়ে টাকা; পরিবহন খরচ কনফার্মেশন কলে জানানো হয়।

WhatsApp নেই? নম্বর দিন, আমরা ফোন করে দাম ও পরিবহন খরচ জানাব

আগে কোনো টাকা দিতে হয় না। নম্বর শুধু এই যোগাযোগের জন্য আমাদের কাছে থাকে।

সম্পর্কিত গাইড

সাইলেজ কেনার আগে

আপনার জেলায় সাইলেজ: দাম ও ডেলিভারি

জেলা বেছে নিন, সেখানে কীভাবে অর্ডার ও ডেলিভারি হয় দেখে নিন।

খামারভেস্ট সাইলেজ (Khamarvest Silage)

তৈরি ভুট্টা সাইলেজ নিতে চান?

দানাভরা ভুট্টার এয়ারটাইট ৫০ কেজি বস্তা। ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজি বস্তা ৪২৫ টাকা, পণ্য হাতে পেয়ে টাকা।

WhatsApp-এ কথা বলুন

৮.৫০ টাকা কেজিহাতে পেয়ে টাকা

কল করুন WhatsApp-এ অর্ডার