খামারি গাইড · ২১ অক্টোবর ২০২৬

সাইলেজের জন্য ভুট্টা চাষ: কখন বুনবেন, কখন কাটবেন, বিঘায় কত হয়

দানার ভুট্টা আর সাইলেজের ভুট্টা একই বীজ, একই জমি, কিন্তু কাটার দিনটা আলাদা। সেই এক দিনের হিসাব ভুল হলে পুরো মৌসুমের সাইলেজ হয় টক আর পানিপড়া, নয়তো শক্ত দানার খড়। এই গাইডে বপন থেকে কাটা পর্যন্ত পুরো হিসাব, বিঘার মাপে।

দানা-ভরা ভুট্টা সাইলেজের জন্য কাটা হচ্ছে

এক কথায় উত্তর

রবি মৌসুমে মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর) বুনুন, বিঘায় প্রায় ৩ কেজি হাইব্রিড বীজ, সারি ৬০ সেমি ও গাছ ২৫ সেমি দূরে। দানা পাকতে দেবেন না: দানার দুধরেখা অর্ধেক নামলে, অর্থাৎ পুরো গাছে শুষ্ক পদার্থ ৩০-৩৫% হলে কাটুন। বিঘায় সবুজ ফলন মোটামুটি ৪-৫ টন, আর একটি দুধের গাভীর সারা বছরের সাইলেজে প্রায় ২ বিঘা ভুট্টা লাগে।

১. দানার ভুট্টা আর সাইলেজের ভুট্টা: পার্থক্য কাটার দিনে

কৃষি তথ্য সার্ভিসের নির্দেশনায় রবি মৌসুমের হাইব্রিড ভুট্টার জীবনকাল ১৪০-১৫০ দিন, তখন দানা শক্ত আর গাছ শুকিয়ে হলুদ। দানার চাষি সেই দিনটার জন্যই অপেক্ষা করেন। সাইলেজের চাষি অপেক্ষা করেন না, কারণ সাইলেজে কাজে লাগে পুরো গাছ: কাণ্ড, পাতা, মোচা, দানা সব একসাথে কুচি করে বায়ুরোধী করে রাখা হয়। যুক্তরাজ্যের AHDB-র নির্দেশনায় সেই কাটার সময় হলো গাছে শুষ্ক পদার্থ ২৮-৩৫%, দানা দুধ থেকে ময়দার মতো হওয়ার মাঝামাঝি।

এর আগে কাটলে গাছে পানি বেশি: গাঁজন টক হয়ে যায়, বস্তা বা গর্ত থেকে রস গড়ায়, আর সেই রসের সাথে পুষ্টি চলে যায়। পরে কাটলে দানা শক্ত হয়ে গরুর পেট দিয়ে আস্ত বেরিয়ে যায়, কাণ্ড শুকনো বলে চেপে বাতাস বের করা যায় না, আর যে অংশে বাতাস থাকে সেখানে ছত্রাক ধরে। দানার ভুট্টায় এক সপ্তাহ আগে-পরে কাটায় বিশেষ কিছু যায় আসে না, সাইলেজে সেই এক সপ্তাহই পুরো পার্থক্য।

সাইলেজ আসলে কী, তৈরির ধাপ ও উপকারিতা-অপকারিতা আলাদা করে আছে সাইলেজ কী ও কীভাবে তৈরি হয় গাইডে। এই গাইডের বিষয় তার আগের অংশ: জমিতে কী করবেন।

২. কখন বুনবেন: কাটার তারিখ থেকে পেছন দিকে হিসাব করুন

কৃষি তথ্য সার্ভিস (AIS) অনুযায়ী বাংলাদেশে রবি মৌসুমে বীজ বপনের উপযুক্ত সময় মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ, অর্থাৎ অক্টোবর থেকে নভেম্বর। খরিফে ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্র, অর্থাৎ মধ্য ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ। একই সূত্র বলছে, অগ্রহায়ণের মধ্যে বপন শেষ করলে ফল আর্মি ওয়ার্ম পোকার ক্ষতি কম হয়।

সাইলেজের চাষির জন্য বপনের তারিখ ঠিক করার সহজ নিয়ম: আগে ভাবুন সাইলেজটা কবে লাগবে, তারপর পেছন দিকে গুনুন। AIS-এর সেচ-সারণিতে রবি মৌসুমে ফুল আসে বপনের ৮০-১০০ দিন পর। ফুল আসার পর দানা দুধ থেকে ময়দা হতে আরও কয়েক সপ্তাহ লাগে (যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যে, ঠান্ডা দেশে, দুধরেখা অর্ধেক নামতে ফুলের পর ৪২-৪৭ দিন; আমাদের গরমে কিছুটা কম লাগতে পারে)। অর্থাৎ কার্তিকের শুরুতে বুনলে ফাল্গুন-চৈত্রে কাটার সময় আসে, আর তখন রোদ থাকে বলে কাটা-চাপা-ঢাকার কাজটা শুকনো দিনে হয়। অগ্রহায়ণের শেষে বুনলে কাটা পড়ে বৈশাখের গরমে ও কালবৈশাখীর ঝুঁকিতে।

বপনের পর দিনগাছের অবস্থা (রবি)কাজ
০বপনজমি তৈরির সময় অর্ধেক ইউরিয়া ও বাকি সব সার
৩০-৪৫৪-৬ পাতাপ্রথম সেচ, প্রথম নিড়ানি, ইউরিয়ার দ্বিতীয় কিস্তি (৩০-৩৫ দিনে)
৫৫-৬৫৮-১০ পাতাদ্বিতীয় সেচ, দ্বিতীয় নিড়ানি, ইউরিয়ার শেষ কিস্তি
৮০-১০০ফুল আসাতৃতীয় সেচ; এখন থেকে প্রতি সপ্তাহে দানা দেখুন
ফুলের ৫-৭ সপ্তাহ পরদুধরেখা অর্ধেকসাইলেজের জন্য কাটা
১৪০-১৫০দানা শক্ত, গাছ শুকনোদানার ফসল কাটা (সাইলেজের জন্য দেরি)

সার ও সেচের সময় AIS ও BARI-র প্রযুক্তি ভাণ্ডার থেকে; "ফুলের ৫-৭ সপ্তাহ পর" ঠান্ডা দেশের মাপ থেকে আন্দাজ, তাই ক্যালেন্ডার নয়, দানা দেখে সিদ্ধান্ত নিন (নিচে ৪ নম্বর অংশ)।

৩. বিঘায় কত বীজ, কত সার, কয়টা সেচ

AIS-এর হিসাবে হাইব্রিড ভুট্টার বীজ লাগে হেক্টরে ২০-২২ কেজি, বিঘায় প্রায় ৩ কেজি। সারি থেকে সারি ৬০ সেমি (২৪ ইঞ্চি), সারিতে বীজ থেকে বীজ ২৫ সেমি (১০ ইঞ্চি), প্রতি গর্তে একটি গাছ; এতে হেক্টরে ৬৬,৬৬৬টি, অর্থাৎ ৩৩ শতকের এক বিঘায় প্রায় ৮,৯০০টি গাছ দাঁড়ায়। সাইলেজের জন্য অনেকে ঘন বোনেন বেশি গাছের আশায়; তাতে কাণ্ড সরু হয়, মোচা ছোট হয়, আর সাইলেজের শক্তি আসে মূলত দানা থেকে, তাই দানার চাষের দূরত্বই রাখুন।

  • বীজ: বিঘায় প্রায় ৩ কেজি হাইব্রিড বীজ। BARI-র বারি হাইব্রিড ভুট্টা জাতগুলো দানার জন্য উদ্ভাবিত, কিন্তু সাইলেজের জন্য লম্বা গাছ ও বড় মোচার জাতই চাই, তাই সেগুলোই চলে। বপনের আগে ছত্রাকনাশকে বীজ শোধন করলে বীজ পচা কমে (AIS)।
  • সার: BARI-র প্রযুক্তি ভাণ্ডারে রবি হাইব্রিড ভুট্টার জন্য হেক্টরে ইউরিয়া ৫৫০, টিএসপি ৫০০, এমওপি ২৫০, জিপসাম ২২০, জিংক সালফেট ১৫ ও বরিক এসিড ৮ কেজি, সাথে ৫-৭ টন গোবর। বিঘার মাপে (হেক্টরের ০.১৩৪ ভাগ) ইউরিয়া প্রায় ৭৪, টিএসপি ৬৭, এমওপি ৩৩, জিপসাম ২৯ কেজি। ইউরিয়ার অর্ধেক জমি তৈরির সময়, বাকিটা দুই কিস্তিতে বপনের ৩০-৩৫ ও ৫৫-৬০ দিন পর। মাটিভেদে মাত্রা বদলায়, উপজেলা কৃষি অফিসে মাটি পরীক্ষা করিয়ে নিলে সার কম লাগে।
  • সেচ: AIS বলছে রবিতে সেচ ছাড়া উচ্চফলনশীল জাতের আশানুরূপ ফলন হয় না। চার সেচ: ৪-৬ পাতায়, ৮-১০ পাতায়, ফুল আসায় ও দানা বাঁধায়। সাইলেজের চাষি সাধারণত চতুর্থ সেচের আগেই কাটেন, তাই তিনটাই যথেষ্ট; কাটার আগের ৭-১০ দিন সেচ বন্ধ রাখুন, নইলে গাছে পানি বেশি থাকে।
  • গোবর ও চুন: AIS অনুযায়ী অম্লীয় মাটিতে হেক্টরে ১,০০০ কেজি (বিঘায় প্রায় ১৩৪ কেজি) ডলোচুন জমি তৈরির অন্তত ৭ দিন আগে দিলে ফলন ২০-২৫% বাড়ে। খামারির নিজের গোবর এখানেই কাজে লাগে।

ফল আর্মি ওয়ার্ম এখন ভুট্টার প্রধান পোকা। AIS-এর পরামর্শ: বিঘায় ৫-৬টি ফেরোমন ফাঁদ, আক্রান্ত গাছে কীড়ার দল দেখলে হাতে মেরে ফেলা, আর একই জমিতে বারবার ভুট্টা না করা। সাইলেজের জমিতে কীটনাশকের ব্যবহার আরও সাবধানে: যা ছিটাবেন তা গরুর পেটে যাবে, তাই লেবেলের "কাটার আগে অপেক্ষার দিন" মেনে চলুন।

৪. কখন কাটবেন: দানার দুধরেখা দেখার নিয়ম

একটা মোচা ভেঙে মাঝখান থেকে দুই টুকরো করুন। দানার ভেতরে উপরের দিকে শক্ত হলুদ অংশ আর নিচের দিকে সাদা দুধের মতো অংশের মাঝে একটা রেখা দেখা যায়, এটাই দুধরেখা (milk line)। দানা পাকতে থাকলে রেখাটা উপর থেকে নিচে নামে। AHDB-র সারণি (Maize Growers Association থেকে):

দানাদুধরেখাখোসাপুরো গাছে শুষ্ক পদার্থসিদ্ধান্ত
দুধের মতোনেইসবুজ২৫%-এর কমঅপেক্ষা
দুধ-ময়দাউপরে দেখা দিচ্ছেসবুজ২৫-২৮%অপেক্ষা
ময়দা-দুধএক-চতুর্থাংশ নেমেছেসবুজ২৮-৩০%প্রস্তুতি নিন
ময়দার মতোঅর্ধেক নেমেছেসবুজ৩০-৩২%কাটুন
শক্ত ময়দা, উপরটা কাচের মতোঅর্ধেক নেমেছেহলদে হচ্ছে৩২-৩৫%কাটুন
শক্ত ও কাচের মতোএকেবারে নিচেশুকনো৩৫%-এর বেশিদেরি হয়ে গেছে

তিনটি সাবধানতা। প্রথমত, এই সারণি ঠান্ডা দেশের; ওহাইও ও উইসকনসিন দুই বিশ্ববিদ্যালয়ই বলছে দুধরেখা একা ভরসাযোগ্য নয়, জাত, বপনের সময় ও আবহাওয়ায় একই রেখায় শুষ্ক পদার্থ আলাদা হয়। দ্বিতীয়ত, গাছ দ্রুত শুকায়: AHDB-র হিসাবে কাটার মৌসুমে সপ্তাহে প্রায় ২%, উইসকনসিনের মাপে দিনে ০.৪-০.৭%। তাই ফুল আসার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে জমির মাঝখান থেকে (কিনারার নয়) কয়েকটা মোচা ভেঙে দেখুন। তৃতীয়ত, ওহাইও স্টেটের পরামর্শ: শুষ্ক পদার্থ নিয়ে সন্দেহ থাকলে একটু আগে কাটা একটু পরে কাটার চেয়ে ভালো, কারণ ভেজা সাইলেজ টক হয় কিন্তু শুকনো সাইলেজে বাতাস থেকে যায় আর ছত্রাক ধরে।

খামারভেস্ট সাইলেজের ভুট্টাও এই নিয়মেই কাটা হয়: বগুড়ার শেরপুর, ধুনট ও শাহজাহানপুরের মাঠে দানার দুধরেখা দেখে, ক্যালেন্ডার দেখে নয়। যে সপ্তাহে দানা ঠিক অবস্থায় আসে, সেই সপ্তাহেই কাটা, কুচি ও বস্তাভরা শেষ করা হয়, কারণ এক সপ্তাহ পরে একই জমির সাইলেজ আর একই জিনিস থাকে না।

৫. বাড়িতে শুষ্ক পদার্থ মাপার উপায়

মাইক্রোওয়েভ ওভেন আর ১ গ্রাম মাপার রান্নাঘরের দাঁড়িপাল্লা থাকলে ল্যাব লাগে না। সাউথ ডাকোটা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন পদ্ধতি:

  1. জমির মাঝখান থেকে ৩-৫টি গাছ কেটে ছোট কুচি করুন, ভালো করে মেশান।
  2. একটা কাগজের প্লেট ওভেনে ১-১.৫ মিনিট শুকিয়ে ওজন লিখে রাখুন। প্লেটে ১০০ গ্রাম কুচি নিন।
  3. ৫০% শক্তিতে ৪ মিনিট চালান, বের করে ওজন করুন। আবার ২-৩ মিনিট, আবার ওজন। শুকাতে থাকলে সময় কমান।
  4. পরপর দুই ওজনের পার্থক্য ২ গ্রামের কম হলে থামুন। কালো হয়ে পুড়ে গেলে নতুন নমুনা নিন।
  5. হিসাব: (শেষ ওজন বাদ প্লেট) ÷ (১০০) × ১০০ = শুষ্ক পদার্থ %। যেমন শেষে ৩২ গ্রাম থাকলে ৩২%।

উইসকনসিনের মাঠ-পরীক্ষায় দেখা গেছে, একই নমুনায় ভিন্ন মানুষের ফল ভিন্ন আসে, বিশেষ করে মোটা কুচিতে; তাই কুচি যত মিহি, ফল তত নির্ভরযোগ্য, আর দুটো নমুনা করে গড় নিন। ওভেন না থাকলে দুধরেখার সারণিই ভরসা, তখন "অর্ধেক নেমেছে, খোসা সবুজ" অবস্থায় কাটুন। ৩০%-এর নিচে এলে কয়েক দিন অপেক্ষা করুন।

৬. বিঘায় কত সাইলেজ হয়, এক গাভীর জন্য কত বিঘা

বাংলাদেশে পুরো-গাছ সাইলেজের বিঘাপ্রতি ফলনের প্রকাশিত সরকারি সংখ্যা আমরা পাইনি, তাই পাশের সংখ্যাগুলো দিচ্ছি। ভারতের জাতীয় দুগ্ধ উন্নয়ন বোর্ড (NDDB) ভুট্টার সবুজ গো-খাদ্যের ফলন ধরে হেক্টরে ৩০-৩৫ টন; Feedipedia-র সংকলনে বিশ্বজুড়ে ১০-৫০ টন, অর্থাৎ জমি, জাত ও সেচভেদে তফাত বিরাট। বাংলাদেশের একটি বেবিকর্ন জাতে (BWMRI হাইব্রিড বেবিকর্ন-১) AIS হেক্টরে ৪১-৪৪ টন সবুজ গো-খাদ্যের কথা বলছে, তবে সেটা কচি মোচা তোলার পরের সবুজ গাছ, দানাভরা সাইলেজ নয়।

বিঘার মাপে (১ বিঘা = ৩৩ শতক = ০.১৩৪ হেক্টর) ৩০-৩৫ টন/হেক্টর মানে বিঘায় প্রায় ৪-৪.৭ টন সবুজ গাছ। কাটা, চাপা ও গাঁজনে কিছু অংশ কমে, তাই ভালো জমিতে বিঘায় ৪ টনের আশেপাশে সাইলেজ ধরে হিসাব করা নিরাপদ।

পশুদৈনিক সাইলেজবছরেবিঘা (৪ টন/বিঘা ধরে)
দুধের গাভী২০ কেজি৭,৩০০ কেজিপ্রায় ১.৮ বিঘা
মোটাতাজাকরণের গরু (৬ মাস)১৫ কেজি২,৭০০ কেজিপ্রায় ০.৭ বিঘা
৫টি দুধের গাভী১০০ কেজি৩৬,৫০০ কেজিপ্রায় ৯ বিঘা

এই অঙ্কটাই ঠিক করে দেয় নিজে বানাবেন না কিনবেন। পাঁচ গাভীর জন্য ৯ বিঘা ভুট্টা, একটা চপার, একদিনে কাটা-চাপার লোক, আর বস্তা বা গর্ত: খরচ আর ঝুঁকির পুরো তুলনা আছে কিনবেন নাকি নিজে বানাবেন গাইডে। তুলনার জন্য, এক বিঘার ৪,০০০ কেজি সাইলেজ খামারভেস্ট থেকে কিনলে ৮.৫০ টাকা কেজি দরে দাম পড়ে ৩৪,০০০ টাকা, পরিবহন আলাদা; তার সাথে নিজের জমির বীজ, সার, সেচ, কাটা ও জমির ভাড়া বা বিকল্প ফসলের আয় মিলিয়ে দেখুন। এক-দুই গরুর খামারে অনেক সময় কেনাই সহজ, দশ গরুর খামারে নিজের জমি থাকলে বানানো।

৭. কাটার পর যে ভুলে পুরো মৌসুম নষ্ট হয়

  • কুচির মাপ: AHDB-র নির্দেশনা ১২-১৮ মিমি। ২০ মিমির বেশি লম্বা কুচি চেপে বাতাস বের করা কঠিন, আর ঠিক সেখানেই ছত্রাক ধরে।
  • একই দিনে শেষ: কাটা গাছ মাঠে ফেলে রাখলে শুকাতে থাকে আর চিনি কমে। কাটা, কুচি, চাপা ও ঢাকা একই দিনে শেষ করুন; বৃষ্টির দিনে কাটবেন না (AHDB)।
  • বাতাস: বস্তায় ভরলে পা দিয়ে বা মেশিনে চেপে বাতাস বের করে মুখ বাঁধুন; গর্তে করলে স্তরে স্তরে চেপে পলিথিনে ঢেকে ওজন দিন। পদ্ধতি ও সংরক্ষণের নিয়ম আছে সাইলেজ সংরক্ষণের গাইডে।
  • অপেক্ষা: গাঁজন শেষ হতে অন্তত ৩-৪ সপ্তাহ; তার আগে খুললে টক-মিষ্টি গন্ধের বদলে অন্য গন্ধ পাবেন। ভালো-মন্দ চেনার লক্ষণ আছে সাইলেজ নষ্ট হয়েছে কি না গাইডে।

যাঁরা এ বছর জমি করছেন না, তাঁদের জন্য একটা কথা: ফাল্গুন-চৈত্রে যখন মাঠে ভুট্টা কাটা হয়, তখনই সাইলেজের মৌসুম, আর এয়ারটাইট বস্তায় সেই সাইলেজ ৬-১২ মাস ভালো থাকে। খামারভেস্ট সাইলেজ ৫০ কেজির বস্তায় সারা বছর একই দামে পাওয়া যায়, বস্তা হাতে পেয়ে টাকা; নিজের খামারে কত লাগবে তা সাইলেজ ক্যালকুলেটরে দেখে নিন, আর মৌসুমভিত্তিক পুরো পরিকল্পনা আছে গো-খাদ্যের মৌসুমি ক্যালেন্ডারে।

সাধারণ প্রশ্ন

সাইলেজের জন্য ভুট্টা কখন বুনতে হয়?

কৃষি তথ্য সার্ভিস অনুযায়ী রবি মৌসুমে মধ্য আশ্বিন থেকে মধ্য অগ্রহায়ণ (অক্টোবর-নভেম্বর), খরিফে ফাল্গুন থেকে মধ্য চৈত্র। অগ্রহায়ণের মধ্যে বপন শেষ করলে ফল আর্মি ওয়ার্মের ক্ষতি কম হয়। কার্তিকের শুরুতে বুনলে ফাল্গুন-চৈত্রের শুকনো দিনে কাটা পড়ে, যা সাইলেজের জন্য সুবিধার।

সাইলেজের জন্য ভুট্টা কখন কাটতে হয়?

দানা পাকার আগে, যখন একটা দানা ভাঙলে দুধরেখা অর্ধেক নেমে এসেছে আর খোসা এখনো সবুজ বা সবে হলদে হচ্ছে। তখন পুরো গাছে শুষ্ক পদার্থ ৩০-৩৫% থাকে (AHDB)। রবিতে ফুল আসে বপনের ৮০-১০০ দিন পর, তার কয়েক সপ্তাহ পরে এই অবস্থা আসে; তারিখ নয়, দানা দেখে ঠিক করুন।

বিঘায় কত বীজ লাগে?

হাইব্রিড ভুট্টার বীজ হেক্টরে ২০-২২ কেজি, বিঘায় প্রায় ৩ কেজি (AIS)। সারি ৬০ সেমি ও গাছ ২৫ সেমি দূরে বুনলে বিঘায় প্রায় ৮,৯০০টি গাছ হয়। সাইলেজের জন্য ঘন বোনার দরকার নেই, তাতে মোচা ছোট হয় আর সাইলেজের শক্তি আসে মূলত দানা থেকে।

এক বিঘায় কত কেজি সাইলেজ হয়?

বাংলাদেশের পুরো-গাছ সাইলেজের সরকারি বিঘাপ্রতি সংখ্যা আমরা পাইনি। ভারতের NDDB সবুজ ভুট্টার ফলন ধরে হেক্টরে ৩০-৩৫ টন, অর্থাৎ বিঘায় প্রায় ৪-৪.৭ টন; Feedipedia-র সংকলনে বিশ্বজুড়ে ১০-৫০ টন/হেক্টর। চাপা ও গাঁজনে কিছু কমে, তাই বিঘায় প্রায় ৪ টন ধরে হিসাব করা নিরাপদ।

একটা গাভীর জন্য কত বিঘা ভুট্টা লাগে?

দিনে ২০ কেজি ধরলে বছরে ৭,৩০০ কেজি সাইলেজ, বিঘায় ৪ টন ফলনে প্রায় ১.৮ বিঘা। ছয় মাসের মোটাতাজাকরণের গরুতে দিনে ১৫ কেজি ধরে প্রায় ০.৭ বিঘা। এক-দুই গরুর জন্য এই জমি, চপার ও একদিনের লোক জোগাড় করা অনেক সময় কেনার চেয়ে কঠিন, তুলনা আছে কিনবেন নাকি নিজে বানাবেন গাইডে।

দেরিতে কাটলে কী হয়?

শুষ্ক পদার্থ ৩৫% ছাড়ালে দানা শক্ত ও কাচের মতো হয়ে গরুর পেট দিয়ে আস্ত বেরিয়ে যায়, আর শুকনো কাণ্ড চেপে বাতাস বের করা যায় না বলে ছত্রাক ধরে। আগে কাটলে উল্টোটা: টক গাঁজন আর রস গড়িয়ে পুষ্টি নষ্ট। সন্দেহ হলে ওহাইও স্টেটের পরামর্শ, একটু আগে কাটা একটু পরে কাটার চেয়ে ভালো।

খামারভেস্ট Facebook পেজ

মাঠের ছবি, কাটার মৌসুমের আপডেট ও খামারিদের প্রশ্নোত্তর দেখতে যুক্ত হন।

পেজে ফলো দিন

তথ্যসূত্র

পরের ধাপ: সাইলেজ নিতে চাইলে

খামারভেস্ট সাইলেজ ৮.৫০ টাকা কেজি, ৫০ কেজি বস্তা ৪২৫ টাকা। আগে টাকা নয়, বস্তা হাতে পেয়ে টাকা; পরিবহন খরচ কনফার্মেশন কলে জানানো হয়।

WhatsApp নেই? নম্বর দিন, আমরা ফোন করে দাম ও পরিবহন খরচ জানাব

আগে কোনো টাকা দিতে হয় না। নম্বর শুধু এই যোগাযোগের জন্য আমাদের কাছে থাকে।

সম্পর্কিত গাইড

সাইলেজ কেনার আগে

আপনার জেলায় সাইলেজ: দাম ও ডেলিভারি

জেলা বেছে নিন, সেখানে কীভাবে অর্ডার ও ডেলিভারি হয় দেখে নিন।

৮.৫০ টাকা কেজিহাতে পেয়ে টাকা

কল করুন WhatsApp-এ অর্ডার