সাইলেজে বাতাস ঢুকলে বা ফার্মেন্টেশন ঠিক না হলে গুণমান নষ্ট হতে পারে। চোখ, নাক এবং হাত দিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা যায়; তবে সন্দেহ থাকলে পরীক্ষাগার বা পুষ্টিবিদের পরামর্শই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য।
খামারভেস্ট সাইলেজ এয়ারটাইট ৫০ কেজি বস্তায় সরবরাহ করা হয়; বস্তা ঠিক রাখলে ৬-১২ মাস পর্যন্ত গুণমান ভালো থাকে। বস্তা খোলার আগে নিচের ৭টি লক্ষণ একবার মিলিয়ে নিন।
আগে নিরাপত্তা
দৃশ্যমান ছত্রাক, পচা গন্ধ বা অস্বাভাবিক গরম থাকা অংশ গরুকে দেবেন না। গরু খাওয়া কমিয়ে দিলে, পাতলা গোবর বা অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে স্থানীয় পশুচিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন।
নষ্ট হওয়ার ৭টি লক্ষণ
- ১. দৃশ্যমান ছত্রাক: সাদা, নীল, সবুজ বা কালো ছত্রাক দেখা গেলে সেই অংশ বাদ দিন।
- ২. পচা বা তীব্র অস্বাভাবিক গন্ধ: স্বাভাবিক টক-ফার্মেন্টেড গন্ধের বদলে পচা, বাসি বা খুব তীব্র অ্যালকোহলের গন্ধ সতর্কতার কারণ।
- ৩. অস্বাভাবিক গরম: আশপাশের তাপমাত্রার তুলনায় সাইলেজ অনেক গরম লাগলে বাতাসের কারণে নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়া চলতে পারে।
- ৪. রং ও গঠন বদলে যাওয়া: স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি কালচে, পিচ্ছিল বা অস্বাভাবিক ভেজা অংশ আলাদা করে দেখুন।
- ৫. বস্তা ফুলে যাওয়া বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া: ফুটো, মুখ খোলা বা অতিরিক্ত ফুলে থাকা বস্তায় বাতাস ঢোকার ঝুঁকি বেশি।
- ৬. খোলার পর দ্রুত গুণমান কমা: বাতাস লাগার পর সাইলেজ গরম হয়ে গেলে বা গন্ধ বদলালে অবশিষ্ট অংশ দ্রুত পরীক্ষা করুন।
- ৭. গরুর খেতে না চাওয়া: রুচি কমে যাওয়া একটি সংকেত হতে পারে, তবে এটি একা প্রমাণ নয়। অন্য লক্ষণও মিলিয়ে দেখুন।
বস্তা খোলার পর কী করবেন?
- ✓খামারভেস্ট সাইলেজ বস্তা খোলার পর ২-৩ দিনের মধ্যে খাওয়ানো ভালো।
- ✓যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বের করুন।
- ✓বাকি অংশের মুখ বাতাস কম ঢোকে এমনভাবে ভালো করে বেঁধে রাখুন।
- ✓সরাসরি রোদ ও ভেজা জায়গা এড়িয়ে চলুন।
- ✓প্রতিদিন দেওয়ার আগে গন্ধ, রং ও তাপমাত্রা একবার দেখুন।
কেন শুধু চোখে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না?
চোখে দেখা ও গন্ধ প্রাথমিক সংকেত দেয়, কিন্তু সব সমস্যাই এভাবে বোঝা যায় না। খামারে নিয়মিত সাইলেজ ব্যবহার করলে নমুনা পরীক্ষা করালে পুষ্টিগুণ ও সম্ভাব্য সমস্যা সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
খামারভেস্ট Facebook পেজ
নিয়মিত সাইলেজ আপডেট, স্টক সংবাদ ও খামারি পরামর্শ পেতে ফেসবুকে লাইক দিয়ে যুক্ত থাকুন।