
এক কথায় উত্তর
ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি ৯০ দিন। একটি দুধের গাভীর (দৈনিক ২০ কেজি) লাগবে ৩৬ বস্তা, মোটাতাজাকরণের গরুর (১৫ কেজি) ২৭ বস্তা। না-খোলা বস্তা ৬-১২ মাস ভালো থাকে বলে নভেম্বরেই কেনা যায়, কিন্তু খোলা বস্তা তিন দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে, আর মজুদের আসল কাজ বস্তাকে ফুটো থেকে বাঁচানো।
১. শীতের ঘাটতি কত দিনের
বেশিরভাগ এলাকায় কাঁচা ঘাসের বড় ঘাটতি ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। দিন গুনলে ডিসেম্বর ৩১, জানুয়ারি ৩১, ফেব্রুয়ারি ২৮, মোট ৯০ দিন। এই গাইডের সব হিসাব এই ৯০ দিন ধরে। আপনার এলাকায় ঘাটতি আগে শুরু হলে বা দেরিতে শেষ হলে দিনের সংখ্যাটা বদলে নিন; কোন জেলায় কোন মাসে ঘাস কমে তা আছে ১২ মাসের গো-খাদ্য ক্যালেন্ডারে।
হিসাবের সূত্র একটাই: পশুর সংখ্যা × দৈনিক কেজি × দিন ÷ ৫০ = বস্তা। দৈনিক কেজির সংখ্যাগুলো সম্প্রসারণ নির্দেশনার মাঝামাঝি মান: দুধের গাভী ২০ কেজি (১৫-২৫), মোটাতাজাকরণ ১৫ কেজি (১০-২০), ছাগল-ভেড়া ১.৫ কেজি (১-২)। নিজের পশুর ওজন ধরে ঠিক করতে দেখুন ওজন অনুযায়ী খাওয়ানোর পরিমাণ।
২. কত বস্তা লাগবে (হিসাবসহ)
একটি পশুর জন্য ৯০ দিনের হিসাব:
| পশু | দৈনিক | ৯০ দিনে | বস্তা | সাইলেজের দাম |
|---|---|---|---|---|
| দুধের গাভী | ২০ কেজি | ১,৮০০ কেজি | ৩৬ বস্তা | ১৫,৩০০ টাকা |
| মোটাতাজাকরণের গরু | ১৫ কেজি | ১,৩৫০ কেজি | ২৭ বস্তা | ১১,৪৭৫ টাকা |
| ছাগল / ভেড়া | ১.৫ কেজি | ১৩৫ কেজি | ৩ বস্তা | ১,২৭৫ টাকা |
যেমন দুধের গাভী: ২০ কেজি × ৯০ দিন = ১,৮০০ কেজি, ÷ ৫০ = ৩৬ বস্তা, × ৪২৫ = ১৫,৩০০ টাকা। ছাগলের বেলায় ১৩৫ ÷ ৫০ = ২.৭, বস্তা ভাঙা কেনা যায় না বলে ৩ বস্তা।
একটা খামারের উদাহরণ: ৩টি দুধের গাভী আর ২টি মোটাতাজাকরণের গরু। দৈনিক (৩ × ২০) + (২ × ১৫) = ৯০ কেজি। ৯০ দিনে ৯০ × ৯০ = ৮,১০০ কেজি, অর্থাৎ ৮,১০০ ÷ ৫০ = ১৬২ বস্তা, দাম ১৬২ × ৪২৫ = ৬৮,৮৫০ টাকা। খামারভেস্ট সাইলেজের দাম সারা বছর একই, ৮.৫০ টাকা কেজি, তাই শীতের পুরো মজুদের খরচ আগেই এভাবে বের করে রাখা যায়। পরিবহন খরচ এর বাইরে, সেটার হিসাব আছে পরিবহন খরচের গাইডে।
দুটো কথা মনে রাখবেন। এক, দুধের গাভীকে দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজির মধ্যে যা দেবেন, তাতে ৯০ দিনে বস্তা লাগবে ২৭ থেকে ৪৫টি; তাই নিজের সংখ্যাটা বসিয়ে নিন। দুই, সাইলেজ একা পূর্ণ রেশন নয়: সাথে দৈনিক কিছু শুকনা খড়, দুধ বা বাড়ন অনুযায়ী দানাদার আর খনিজ মিশ্রণ লাগবেই, সেগুলোর খরচ এই হিসাবে ধরা নেই। নিজের খাদ্য ও দাম দিয়ে পুরো রেশন দেখতে পারেন ফ্রি রেশন জেনারেটরে।
৩. খোলা বস্তা কত দিন চলবে
মজুদের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভুল হয় এখানে। বস্তা খোলার পর বাতাস ঢোকে, আর সাইলেজ নষ্ট হতে শুরু করে। উইসকনসিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্প্রসারণ নির্দেশনা বলে, কখনোই তিন দিনের বেশি খাবারের সমান সাইলেজ খোলা রাখা যাবে না, আর প্রতিবার খাওয়ানোর পর বস্তার মুখ বন্ধ করতে হবে। এক বস্তা খোলা অবস্থায় কত দিন চলবে তার হিসাব: ৫০ ÷ পুরো পালের দৈনিক কেজি।
| পাল | দৈনিক মোট | এক বস্তা চলে | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১টি দুধের গাভী | ২০ কেজি | ২.৫ দিন | ঠিক আছে |
| ১টি মোটাতাজাকরণের গরু | ১৫ কেজি | ৩.৩ দিন | ৩ দিনের বেশি, সাবধানে বেঁধে রাখুন |
| ২টি মোটাতাজাকরণের গরু | ৩০ কেজি | ১.৭ দিন | ঠিক আছে |
| ৫টি ছাগল | ৭.৫ কেজি | ৬.৭ দিন | অনেক বেশি, প্রতিবেশীর সাথে ভাগ করুন |
| ১২টি ছাগল | ১৮ কেজি | ২.৮ দিন | ঠিক আছে |
অর্থাৎ ছাগলের খামারে এক বস্তা তিন দিনে শেষ করতে কমপক্ষে ৫০ ÷ (১.৫ × ৩) = ১১.১, অর্থাৎ ১২টি ছাগল লাগে। পাল ছোট হলে দুটো উপায়: প্রতিবেশী খামারির সাথে একটা বস্তা ভাগ করে নিন, অথবা প্রতিবার শুধু সেদিনের পরিমাণ বের করে বাতাস চেপে বের করে মুখ শক্ত করে বেঁধে ছায়ায় রাখুন। কোন লক্ষণে বুঝবেন খোলা বস্তা নষ্ট হতে শুরু করেছে তা আছে সাইলেজ নষ্ট চেনার গাইডে।
৪. কবে কিনবেন, একবারে নাকি ভাগে ভাগে
না-খোলা এয়ারটাইট বস্তা ৬-১২ মাস ভালো থাকে। নভেম্বরের মাঝামাঝি কেনা বস্তা ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত রাখলে সময় লাগে সাড়ে তিন মাসের মতো, অর্থাৎ ৬ মাসের সীমার অনেক ভেতরে। তাই মান নিয়ে আগে কেনার ভয় নেই, যদি বস্তা অক্ষত থাকে।
তবে পুরো মজুদ একবারে আনবেন নাকি ভাগে ভাগে, সেটা তিনটা জিনিসের উপর নির্ভর করে:
- জায়গা: ৩৬টা বস্তা রাখার মতো শুকনা, ছায়াযুক্ত, ইঁদুরমুক্ত জায়গা আছে কি না।
- পরিবহন খরচ: প্রতিটি ডেলিভারির আলাদা পরিবহন খরচ আছে, তাই যত বেশি ভাগ, তত বেশি বার খরচ।
- ঝুঁকি: বস্তা যত বেশি দিন পড়ে থাকবে, ইঁদুর বা পাখিতে ফুটো হওয়ার সুযোগ তত বেশি।
একটা মাঝামাঝি পথ হলো মাসে মাসে আনা। একটি গাভীর জন্য মাসে ২০ × ৩০ = ৬০০ কেজি, অর্থাৎ ১২ বস্তা; তিন মাসে তিনটি চালানে ৩৬ বস্তা। জেলা দূরে হলে দুটি বড় চালান (যেমন ডিসেম্বরের শুরু আর জানুয়ারির মাঝামাঝি) পরিবহন খরচে সাধারণত সাশ্রয়ী হয়। আরেকটা কথা: ঘাটতির মাসে সবার চাহিদা একসাথে বাড়ে, তাই আগে অর্ডার দিলে নিজের সুবিধামতো ডেলিভারির তারিখ ঠিক করা সহজ হয়। খামারভেস্ট সাইলেজে কোনো ন্যূনতম অর্ডার নেই, এক বস্তাও নেওয়া যায়, আর টাকা দেবেন পণ্য হাতে পেয়ে।
৫. মজুদ রাখার নিয়ম
বস্তার সাইলেজের শত্রু একটাই, বাতাস। বস্তায় ছোট একটা ফুটো দিয়েও বাতাস ঢুকে ভেতরের অনেকটা নষ্ট করতে পারে। উইসকনসিনের এক গবেষণায় পাখিতে ফুটো করা একটি বস্তায় শুকনা পদার্থের ৩০.৬% নষ্ট হয়েছিল, সারানোর পরও। তাই মজুদ রাখার নিয়মগুলো সবই বাতাস আর ফুটো ঠেকানোর জন্য:
- শক্ত, শুকনা জায়গা: পানি জমে না এমন জায়গায়, সম্ভব হলে ইট বা কাঠের পাটাতনের উপর রাখুন, যাতে নিচ থেকে স্যাঁতসেঁতে না লাগে।
- ছায়া: রোদে প্লাস্টিক দুর্বল হয়, তাই ঘরের ভেতর বা ছাউনির নিচে রাখুন।
- চারপাশ পরিষ্কার: উইসকনসিনের নির্দেশনা বলে বস্তার চারপাশে প্রায় ৩ ফুট (৯০ সেন্টিমিটারের মতো) জায়গা ঘাস ও আগাছামুক্ত রাখতে আর পড়ে যাওয়া খাবার সাথে সাথে পরিষ্কার করতে, যাতে ইঁদুর কাছে না আসে।
- নিয়মিত দেখা: সপ্তাহে অন্তত একবার সব বস্তা ঘুরিয়ে দেখুন কোথাও ফুটো বা ছেঁড়া আছে কি না। ফুটো পেলে সাথে সাথে বন্ধ করুন। সাধারণ স্কচটেপ দীর্ঘদিন বাতাস আটকায় না, তাই ফুটো হওয়া বস্তাটাই আগে খাওয়াতে শুরু করুন।
- আগে আসা, আগে খাওয়ানো: প্রতিটি চালানের বস্তায় আসার তারিখ লিখে রাখুন, আর পুরোনোটা আগে খোলেন।
- পশু ও শিশুদের থেকে দূরে: গরু-ছাগলের নাগালে থাকলে শিং বা খুরে বস্তা ফেটে যেতে পারে।
বস্তা আসার দিনেই মান দেখে নেওয়ার ৬টি সহজ পরীক্ষা আছে সাইলেজের মান যাচাইয়ের গাইডে, আর খোলার পর কীভাবে রাখবেন তা আছে সংরক্ষণের নিয়মে।
৬. সাধারণ প্রশ্ন
একটি দুধের গাভীর জন্য শীতে কত বস্তা সাইলেজ লাগে?
দৈনিক ২০ কেজি ধরে ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির ৯০ দিনে ১,৮০০ কেজি, অর্থাৎ ৩৬ বস্তা, দাম ১৫,৩০০ টাকা। দৈনিক ১৫ থেকে ২৫ কেজির মধ্যে দিলে লাগবে ২৭ থেকে ৪৫ বস্তা। পরিবহন খরচ আলাদা।
শীতের সাইলেজ কত আগে কেনা যায়?
না-খোলা এয়ারটাইট বস্তা ৬-১২ মাস ভালো থাকে, তাই নভেম্বরে কেনা বস্তা ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত রাখা যায়, যদি বস্তা অক্ষত থাকে এবং শুকনা, ছায়াযুক্ত, ইঁদুরমুক্ত জায়গায় রাখা হয়।
পুরো মজুদ একবারে আনা ভালো নাকি ভাগে ভাগে?
জায়গা, পরিবহন খরচ আর ইঁদুর-পাখির ঝুঁকি মিলিয়ে ঠিক করুন। একটি গাভীর জন্য মাসে ১২ বস্তা করে তিনটি চালান একটা মাঝামাঝি পথ। জেলা দূরে হলে দুটি বড় চালানে পরিবহন খরচ সাধারণত কম পড়ে।
অল্প ছাগলের খামারে ৫০ কেজির বস্তা কি বেশি হয়ে যায়?
খোলা বস্তা তিন দিনের বেশি রাখা ঠিক নয়। দৈনিক ১.৫ কেজি ধরলে এক বস্তা তিন দিনে শেষ করতে কমপক্ষে ১২টি ছাগল লাগে। পাল ছোট হলে প্রতিবেশীর সাথে বস্তা ভাগ করুন, অথবা প্রতিবার শুধু সেদিনের পরিমাণ বের করে মুখ শক্ত করে বেঁধে রাখুন।
মজুদের বস্তায় ফুটো হলে কী করবেন?
সাথে সাথে ফুটো বন্ধ করুন, আর সেই বস্তাটাই আগে খাওয়াতে শুরু করুন, কারণ সাধারণ টেপ দীর্ঘদিন বাতাস আটকায় না। বস্তার চারপাশ ঘাস ও আগাছামুক্ত রাখলে আর পড়ে যাওয়া খাবার পরিষ্কার রাখলে ইঁদুর কম আসে।
খামারভেস্ট Facebook পেজ
শীতের প্রস্তুতি, স্টক আপডেট ও খামারিদের প্রশ্নোত্তর দেখতে যুক্ত হন।
তথ্যসূত্র
সম্পর্কিত গাইড
আপনার জেলায় সাইলেজ: দাম ও ডেলিভারি
জেলা বেছে নিন, সেখানে কীভাবে অর্ডার ও ডেলিভারি হয় দেখে নিন।