খামারি গাইড · ২৭ আগস্ট ২০২৬

গরুর ওজন মাপার নিয়ম: স্কেল ছাড়া ফিতা দিয়ে ওজন বের করুন

খামারে স্কেল না থাকলেও ওজন জানা যায়। দর্জির ফিতা বা ইঞ্চি টেপ দিয়ে দুটি মাপ নিলেই হয়।

মাঠে চপার মেশিনে ভুট্টা গাছ কেটে সাইলেজের বস্তা ভরার কাজ চলছে

খামারের অনেক সিদ্ধান্তই আসলে একটি সংখ্যার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে: গরুটির ওজন কত। দৈনিক কতটুকু খাবার দেবেন, কৃমিনাশক বা ওষুধের মাত্রা কত হবে, মোটাতাজাকরণে সত্যিই ওজন বাড়ছে কি না, বিক্রির সময় ন্যায্য দাম কত, সবই ওজনের ওপর নির্ভর করে। অথচ বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছোট খামারে পশু ওজন করার স্কেল নেই।

ফল যা হয়: ওজন আন্দাজে ঠিক করা হয়। চোখে দেখে আন্দাজ ব্যক্তিভেদে অনেক বদলায়, আর বিক্রির সময় সাধারণত ক্রেতাই আন্দাজে বেশি পটু হন, তাই ক্ষতিটা খামারিরই হয়। ভালো খবর হলো, একটি সাধারণ ফিতা দিয়েই ওজনের কাছাকাছি হিসাব বের করা যায়।

যা লাগবে

একটি দর্জির ফিতা বা ইঞ্চি টেপ (সেন্টিমিটার দাগ থাকলে সবচেয়ে সহজ), একজন সাহায্যকারী, আর গরুকে শান্তভাবে দাঁড় করানোর জায়গা। দড়ি দিয়েও মেপে পরে ফিতায় দৈর্ঘ্য দেখে নেওয়া যায়।

সূত্রটি কী

যে হিসাবটি সারা বিশ্বে ব্যবহার হয় তার নাম শেফার্স ফর্মুলা (Shaeffer's formula)। সেন্টিমিটারে রূপান্তর করলে দাঁড়ায়:

ওজন (কেজি) = বুকের বেড় × বুকের বেড় × দেহের দৈর্ঘ্য ÷ ১০৮৪০

সব মাপ সেন্টিমিটারে

উদাহরণ: একটি গাভীর বুকের বেড় ১৭০ সেমি এবং দৈর্ঘ্য ১৫০ সেমি হলে, ১৭০ × ১৭০ × ১৫০ ÷ ১০৮৪০ = প্রায় ৪০০ কেজি।

হিসাব করতে না চাইলে দরকার নেই। খামারভেস্ট সাইলেজের ফ্রি চার্টে বেড় ও দৈর্ঘ্যের ঘর মিলিয়ে সরাসরি ওজন দেখা যায়, প্রিন্ট করে গোয়ালে ঝুলিয়ে রাখলে যখন দরকার তখনই কাজে লাগবে।

ফ্রি প্রিন্টযোগ্য চার্ট: বেড় ১১০ থেকে ২০০ সেমি ও দৈর্ঘ্য ৯০ থেকে ১৬০ সেমি পর্যন্ত সব ঘরের ওজন এক পাতায় দেওয়া আছে। ওজন মাপার চার্টটি দেখুন ও প্রিন্ট করুন →

দুটি মাপ কীভাবে নেবেন

১. বুকের বেড় (heart girth)

সামনের দুই পায়ের ঠিক পেছনে, কুঁজের নিচ দিয়ে ফিতা ঘুরিয়ে বুকের চারপাশের মাপ নিন। এটি বুকের সবচেয়ে সরু জায়গা। ফিতা টান টান থাকবে, তবে এতটা নয় যে চামড়ায় গেঁথে যায়। গরু শ্বাস ছাড়ার সময় মাপটি পড়ুন।

২. দেহের দৈর্ঘ্য (body length)

কাঁধের সামনের হাড় (point of shoulder) থেকে পেছনের পাছার হাড় বা পিন বোন পর্যন্ত সোজা মাপ নিন। মাথা বা ঘাড় এই মাপে ধরবেন না, লেজও নয়।

সঠিক মাপের ৪টি শর্ত

  • সমতল জায়গায় দাঁড় করান। ঢালু জায়গায় দাঁড়ালে মাপ বদলে যায়।
  • চার পা যেন শরীরের নিচে সোজা থাকে এবং মাথা স্বাভাবিক উচ্চতায় থাকে, উঁচু বা নিচু নয়।
  • সকালে খাওয়ানোর আগে মাপুন। পেট ভরা থাকলে বুকের বেড় বেশি আসে, ওজনও বেশি দেখায়।
  • একই গরু দুবার মেপে মিলিয়ে নিন। দুই মাপে বড় পার্থক্য এলে বুঝবেন ফিতা ঠিক জায়গায় বসেনি।

যে ভুলগুলো বেশি হয়

  • ফিতা পেটের দিকে নেমে যাওয়া: বেড় মাপতে হয় সামনের পায়ের পেছনে, পেটের মাঝখানে নয়। পেটে মাপলে ওজন অনেক বেশি আসে।
  • দৈর্ঘ্যে মাথা বা লেজ ধরা: মাপ শুরু হবে কাঁধের হাড় থেকে, নাক থেকে নয়।
  • ফিতা ঢিলা রাখা বা খুব চেপে ধরা: দুটোতেই ভুল হয়, একটিতে বেশি একটিতে কম।
  • গরু নড়াচড়ার সময় মাপা: শান্ত না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন, তাড়াহুড়ো করলে পুরো হিসাবই ভুল হবে।

কতটা নির্ভুল, আর সীমা কোথায়

সঠিক নিয়মে মাপলে এই হিসাব সাধারণত আসল ওজনের ৫ শতাংশের মধ্যে থাকে। অর্থাৎ ৪০০ কেজির একটি গরুতে ২০ কেজির মতো কমবেশি হতে পারে। খাবারের পরিমাণ ঠিক করা, ওজন বাড়ছে কি না দেখা বা বিক্রির আগে ধারণা নেওয়ার জন্য এটি যথেষ্ট।

তবে এটি স্কেলের বিকল্প নয়। খুব মোটা বা খুব রোগা প্রাণী, গর্ভবতী গাভী এবং ছোট বাছুরে ভুল বেশি হতে পারে। ওষুধ বা কৃমিনাশকের মাত্রা ঠিক করার সময় সবসময় স্থানীয় পশুচিকিৎসকের পরামর্শ নিন, নিজে হিসাব করে মাত্রা ঠিক করবেন না।

ওজন জানার পর কী করবেন

প্রাপ্তবয়স্ক গরুর শারীরিক ওজনের ৩ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত আঁশজাতীয় খাদ্য দরকার হয়, আর ভুট্টা সাইলেজ দিলে এর সিংহভাগই সাইলেজ থেকে পূরণ করা যায়। বাস্তবে ৩৫০-৪৫০ কেজির দুধের গাভীকে দৈনিক ১৫-২৫ কেজি, ২৫০-৩৫০ কেজির মোটাতাজাকরণের গরুকে ১০-২০ কেজি, ছয় মাসের বেশি বয়সী বাছুরকে ৩-৫ কেজি এবং ছাগল ও ভেড়াকে ১-২ কেজি সাইলেজ দেওয়া হয়।

ওজন জানা থাকলে মাসে কত বস্তা লাগবে সেটিও আগে থেকে হিসাব করে রাখা যায়। খামারভেস্ট সাইলেজের ৫০ কেজির এয়ারটাইট বস্তা ৫০০ টাকা, অর্থাৎ প্রতি কেজি ১০ টাকা, তাই দৈনিক পরিমাণ জানা থাকলে মাসিক খরচ বের করতে আর আন্দাজের দরকার হয় না।

তথ্যসূত্র

খামারভেস্ট Facebook পেজ

নিয়মিত সাইলেজ আপডেট, স্টক সংবাদ ও খামারি পরামর্শ পেতে ফেসবুকে যুক্ত থাকুন।

পেজে ফলো দিন

খামারভেস্ট সাইলেজ

ওজন জানা হলো, এবার খাবারের জোগান ঠিক করুন

৫০ কেজির এয়ারটাইট বস্তা ৫০০ টাকা, পণ্য হাতে পেয়ে টাকা, সারাদেশে ডেলিভারি। WhatsApp-এ এলাকা ও বস্তার সংখ্যা পাঠান।

WhatsApp-এ কথা বলুন