দুধ হঠাৎ কমে গেলে আমরা অনেকে দ্রুত ভিটামিন বা টনিকের খোঁজ করি। অথচ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আসল কারণ থাকে অনেক সাধারণ, পানি কম, খাদ্যে সবুজ আঁশের ঘাটতি, গরমে অস্বস্তি, কিংবা দোহনের অনিয়ম। নিচের ৭টি করণীয় ধাপে ধাপে মিলিয়ে দেখুন।
জরুরি বিষয়
দুধ যদি হঠাৎ অনেকটা কমে যায়, গাভী খাওয়া বন্ধ করে, জ্বর আসে বা বাট ফুলে গরম হয়ে যায়, আগে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো রোগের লক্ষণ; শুধু খাবার বদলে এর সমাধান হবে না।
১. পর্যাপ্ত পরিষ্কার পানি, সবার আগে
দুধের প্রায় ৮৭ ভাগই পানি। তাই পানি কম খেলে সবার আগে দুধই কমে। দুধের গাভীর সামনে সবসময় পরিষ্কার পানি রাখুন, বিশেষ করে দোহনের পরে ও গরমের দিনে। পাত্র নিয়মিত ধুয়ে দিন; শেওলা পড়া বা গরম পানি গাভী খেতে চায় না।
২. সারা বছর মানসম্মত সবুজ খাদ্য নিশ্চিত করুন
বর্ষা বা শীতে কাঁচা ঘাস কমে গেলেই অনেক খামারে দুধ পড়ে যায়। এই ওঠানামা বন্ধ করার সবচেয়ে সহজ উপায় সাইলেজ, সঠিক বয়সে কাটা আস্ত ভুট্টা গাছ দানাসহ ফার্মেন্ট করা থাকে বলে এতে আঁশ ও শক্তি দুটোই মেলে, আর মান থাকে সারা বছর একই। দুধের গাভীকে ওজন ও দুধ অনুযায়ী দৈনিক ১৫-২৫ কেজি সাইলেজ দেওয়া হয় (বিস্তারিত হিসাব এখানে)।
খামারভেস্ট সাইলেজ ৫০ কেজি এয়ারটাইট বস্তায় মাত্র ৫০০ টাকায় (১০ টাকা কেজি) সারাদেশে ডেলিভারি দেয়, ফলে নিজের জমি বা ঘাস কাটার লোক না থাকলেও সবুজ খাদ্যের জোগান থেমে থাকে না।
৩. দানাদার দিন দুধের মাপে, অনুমানে নয়
দানাদার কম দিলে গাভী শরীর ভেঙে দুধ দেয় আর বেশি দিলে টাকাই নষ্ট। প্রচলিত সম্প্রসারণ নির্দেশনা অনুযায়ী শরীর টিকিয়ে রাখার জন্য অল্প পরিমাণের সাথে প্রতি আড়াই থেকে তিন লিটার দুধের জন্য প্রায় এক কেজি সুষম দানাদার ধরা হয়। আপনার গাভীর ওজন ও জাত অনুযায়ী সঠিক রেশন স্থানীয় প্রাণিসম্পদ অফিস বা ভেটের সাথে মিলিয়ে নিন।
৪. এক নজরে দুধের গাভীর দৈনিক খাদ্য তালিকা
৩৫০-৪৫০ কেজি ওজনের একটি দুধের গাভীর জন্য সাধারণ চিত্র:
| খাদ্য | দৈনিক পরিমাণ | কেন দরকার |
|---|---|---|
| ভুট্টা সাইলেজ | ১৫ - ২৫ কেজি | আঁশ + শক্তি, রুমেন সচল রাখে, দুধের ফ্যাট ধরে রাখে |
| শুকনা খড় | ১ - ২ কেজি | রুমেন স্বাস্থ্যের জন্য শুকনা আঁশ |
| সুষম দানাদার | দুধের মাপে | প্রোটিন ও বাড়তি শক্তি (৩ নম্বর ধাপ দেখুন) |
| খনিজ মিশ্রণ ও লবণ | ভেটের পরামর্শে | ক্যালসিয়ামসহ খনিজের ঘাটতি পূরণ |
| পরিষ্কার পানি | সবসময় সামনে | দুধের মূল উপাদান |
৫. খাবার বদলান ধীরে, ৭ দিনের নিয়মে
গাভীর পেটের (রুমেনের) ব্যাকটেরিয়া নতুন খাবারে অভ্যস্ত হতে সময় নেয়। হঠাৎ পুরো রেশন বদলে দিলে হজমের সমস্যায় খাওয়া ও দুধ দুটোই কমে। নতুন খাবার, সাইলেজসহ, সবসময় অল্প দিয়ে শুরু করে ৭ দিনে ধাপে ধাপে বাড়ান। বিস্তারিত: প্রথমবার সাইলেজ খাওয়ানোর নিয়ম।
৬. আরাম দিন, গরমে বিশেষ যত্ন
অস্বস্তিতে থাকা গাভী খাওয়া কমিয়ে দেয়, আর খাওয়া কমলেই দুধ কমে। গোয়ালে ছায়া ও বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন, মেঝে শুকনা রাখুন। গরমের দিনে ভোরে ও সন্ধ্যায় খাওয়ান, দুপুরে গায়ে পানি ছিটিয়ে দিন। মশা-মাছির উপদ্রব কমান, সারাদিন লেজ নাড়তে থাকা গাভীও শান্তিতে খেতে পারে না।
৭. দোহনের নিয়ম ও নিয়মিত কৃমিনাশক
প্রতিদিন একই সময়ে, শান্ত পরিবেশে দোহন করুন এবং বাট সম্পূর্ণ খালি করুন, ভেতরে দুধ রয়ে গেলে উৎপাদন ধীরে ধীরে কমতে থাকে। দোহনের আগে-পরে বাট পরিষ্কার রাখুন; বাট ফোলা, গরম বা দুধে ছানার মতো দলা দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। সেই সাথে ভেটের পরামর্শ মেনে নিয়মিত কৃমিনাশক ও টিকা দিন, পেটে কৃমি থাকলে দামি খাবারের পুষ্টিও গাভীর গায়ে লাগে না।
যে ৫টি ভুলে দুধ কমে যায়
- ✗হঠাৎ একদিনে খাবার বদলে ফেলা
- ✗পানির পাত্র খালি বা নোংরা রাখা
- ✗নষ্ট বা ছত্রাক পড়া খাবার দেওয়া, নষ্ট সাইলেজ চেনার লক্ষণ দেখুন
- ✗দোহনের সময় প্রতিদিন এলোমেলো করা
- ✗গরমে দুপুরের রোদে খাওয়ানোর চেষ্টা করা
শেষ কথা, দুধ বাড়ানো একদিনের কাজ নয়। উপরের ধাপগুলো ঠিক রাখলে ২-৩ সপ্তাহের মধ্যেই পরিবর্তন চোখে পড়তে শুরু করে। খাদ্যের জোগানটা নিয়মিত রাখতে চাইলে খামারভেস্ট সাইলেজ আছে আপনার পাশে, WhatsApp-এ একটি মেসেজেই সারাদেশে ডেলিভারি।
খামারভেস্ট Facebook পেজ
খামার ব্যবস্থাপনার টিপস, সাইলেজ ভিডিও ও খামারিদের অভিজ্ঞতা পেতে ফেসবুকে যুক্ত হন।